বাংলাদেশি পাসপোর্টে আবারও বহুল আলোচিত ‘ইসরাইল ব্যতীত’ (Except Israel) শব্দবন্ধটি যুক্ত হতে যাচ্ছে। ছয় বছর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বাদ দেওয়া এ লেখাটি পুনর্বহালের পথে হাটছে বর্তমান বিএনপি সরকার।
একই সঙ্গে ই-পাসপোর্টের পাতা থেকে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের বিভিন্ন স্থাপনার ছবি ও জলছাপ বাদ দিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিসহ নতুন কিছু ছবি যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্রনীতি, জনমত এবং ফিলিস্তিন ইস্যুতে দেশের নৈতিক অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত পুনর্বহাল করা হচ্ছে।
এর আগেও অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গত বছরের ৭ এপ্রিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক চিঠিতে বাংলাদেশের পাসপোর্টে এক্সেপ্ট ইসরাইল বা ইসরাইল ব্যতীত শব্দবন্ধ বহাল করার কথা বলা হয়। পাসপোর্ট অধিদফতরের মহাপরিচালককে দেওয়া চিঠিতে আগের মতো বাংলাদেশি পাসপোর্টে ইসরাইল ব্যতীত পুনর্বহালে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।
তবে অন্তর্বর্তী সরকারের ওই সিদ্ধান্তে কূটনৈতিক পাসপোর্টের বাইরে বড় পরিসরে কার্যকর হয়নি। এখন বর্তমান সরকার সব ধরনের পাসপোর্টে এটি কার্যকরের উদ্যোগ নিলো।
এ বিষয়ে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ধাপে ধাপে নতুন ই-পাসপোর্টে ‘ইসরায়েল ব্যতীত’ শর্তটি প্রিন্ট করা হবে। তবে এতে পুরোনো পাসপোর্টধারীদের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো জটিলতা তৈরি হবে না। বর্তমান পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তা নবায়নের (রিনিউ) সময় নাগরিকরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই নতুন সংস্করণের পাসপোর্ট পেয়ে যাবেন।
উল্লেখ্য, ২০২০ খ্রিষ্টাব্দে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ই-পাসপোর্ট পরিসেবা চালুর সময় হঠাৎ করেই পাসপোর্ট থেকে ‘ইসরায়েল ব্যতীত’ শব্দবন্ধটি বাদ দেওয়া হয়। তৎকালীন সরকারের এই সিদ্ধান্তের পর দেশজুড়ে সমালোচনা তৈরি হয়েছিল।
চলতি মাসে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে পাসপোর্টের ভেতরের পৃষ্ঠার জলছাপ আমূল পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগের সরকারের আমলে যুক্ত করা নির্দিষ্ট ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক প্রতীকী স্থাপনাগুলো নতুন পাসপোর্ট থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে।
বাদ পড়া ছবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধ, নৌকার ছবি, ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের স্বাধীনতা স্তম্ভ, মডেল মসজিদ, বঙ্গবন্ধু সেতু (যমুনা সেতু), বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটার, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট, পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, দিনাজপুরের কান্তজিউ মন্দির এবং মেহেরপুরের মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ।
নতুন সংস্করণের ই-পাসপোর্টে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হিসেবে যুক্ত হচ্ছে চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক স্মৃতি। রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ শিক্ষার্থী আবু সাঈদের দুই হাত প্রসারিত করে বুক পেতে দাঁড়িয়ে থাকার সেই অবিস্মরণীয় ছবিটি স্থান পাচ্ছে পাসপোর্টের জলছাপে।
এছাড়া বাংলাদেশের সমৃদ্ধ ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে নতুন করে যুক্ত করা হচ্ছে— ঐতিহাসিক বঙ্গভবন, জিআই পণ্য জামদানি শাড়ি, জাতীয় ফল কাঁঠাল, জাতীয় মাছ ইলিশ, সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওর, নৌকা ছাড়া কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত, মৌলভীবাজারের মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত, ঢাকার আহসান মঞ্জিল, কুমিল্লার শালবন বিহার, বান্দরবানের নীলগিরি, রাজশাহীর আমবাগান, সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ এবং নারায়ণগঞ্জের ঐতিহাসিক পানাম নগরীর ছবি।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.