সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় দায়ের হওয়া দুই মামলায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আদেশ বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। এর ফলে পূর্বের ১০টি মামলার সঙ্গে নতুন করে ২টি মামলায় জামিন বহাল থাকায় তার কারামুক্তিতে বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
রবিবার (১৭ মে) আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হকের নেতৃত্বাধীন চেম্বার জজ আদালত এই আদেশ দেন। আদালতে সেলিনা হায়াৎ আইভীর পক্ষে ছিলেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু।
এর আগে গত ১০ মে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ঘটনায় হত্যাসহ পৃথক ১০ মামলায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
২০২৫ সালের নভেম্বরে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ঘটনায় হত্যাসহ পৃথক পাঁচ মামলায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে রুল যথাযথ ঘোষণা করে বিচারপতি এ এস এম আবদুল মোবিন ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ জামিন দেন। সেই জামিনাদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালতে আবেদন করলে তা স্থগিত হয়ে যায়। এই ৫টির মধ্যে তিনটি হত্যা মামলা ও বাকি দুটি হত্যাচেষ্টা মামলা। পরে ১৮ নভেম্বর তাকে আরও ৫ মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এই ৫ মামলায় বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ ২৬ ফেব্রুয়ারি জামিন দেন।
পাঁচ মামলার মধ্যে চারটি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে সেগুলো হল- ফতুল্লা থানায় করা বাস চালক আবুল হোসেন মিজি হত্যা, আব্দুর রহমান হত্যা, মো. ইয়াছিন হত্যা এবং পারভেজ হত্যা মামলা। হামলা ও সরকারি কাজো বাধা দেওয়ার দেওয়ার অভিযোগে অপর মামলাটি হয়েছে সদর মডেল থানায়। এরপর রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করেন। গত ৫ মার্চ হাইকোর্টের দেওয়া জামিনাদেশ স্থগিত করেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। একই সঙ্গে শুনানির জন্য নিয়মিত বেঞ্চে পাঠান। এই ১০ মামলায় আপিল বিভাগে শুনানি হয়। শুনানি শেষে ১০ মামলায় জামিন বহাল রাখা হয়। এদিকে আরও দুই মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। পরে হাইকোর্ট বিভাগ ৩০ এপ্রিল সেই দুই মামলায় জামিন দেন। সেই দুই মামলায় আজ জামিন বহাল রাখলেন চেম্বার জজ আদালত।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.