পুলিশের মালিকানাধীন কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেওয়ার আগেই পদত্যাগ করেছেন ভারপ্রাপ্ত এমডি কিমিয়া সাদাত। আগামী ১৪ মে তার পূর্ণাঙ্গ এমডি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের কথা ছিল।
বুধবার (৬ মে) ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তিনি ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ও পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকিরের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন।
পদত্যাগপত্রে কিমিয়া সাদাত উল্লেখ করেন, ব্যক্তিগত কারণে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী তিন মাসের নোটিশ পিরিয়ড শেষে তার এই পদত্যাগ কার্যকর হবে। তবে এই অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে তিনি তার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবেন এবং ব্যাংকের কার্যক্রম সচল রাখতে ও দায়িত্ব হস্তান্তরে পূর্ণ সহযোগিতা করবেন বলে জানিয়েছেন।
জানা গেছে, কমিউনিটি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ সম্প্রতি কিমিয়া সাদাতকে পূর্ণাঙ্গ এমডি হিসেবে নিয়োগ দেয়। বাংলাদেশ ব্যাংকও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে সেই নিয়োগ অনুমোদন করেছিল।
২০২৫ সালের এপ্রিলে কমিউনিটি ব্যাংকের নেতৃত্বে আসেন কিমিয়া সাদাত। তার দায়িত্ব পালনকালেই ব্যাংকটির আর্থিক সূচকে উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা যায়। ২০২৫ সালের শেষে ব্যাংকটির নিট মুনাফা ৪৯ শতাংশ বেড়ে ১০০ কোটি টাকায় দাঁড়ায়, যা আগের বছর ছিল ৭০ কোটি টাকা। নতুন প্রজন্মের ব্যাংকগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ লভ্যাংশও ঘোষণা করে ব্যাংকটি। এ ছাড়া তার মেয়াদে ব্যাংকটির আমানত ৩২ শতাংশ বা প্রায় ১ হাজার ৯৫৬ কোটি টাকা বেড়ে ৮ হাজার ৩৮ কোটি টাকায় পৌঁছায়। একই সময়ে ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ৫ হাজার ৬১১ কোটি টাকা। খেলাপি ঋণ আদায়েও উল্লেখযোগ্য সাফল্য আসে। ২০২৪ সালে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের হার ছিল ৩ দশমিক ০৬ শতাংশ, যা ২০২৫ সালে কমে ১ দশমিক ৮৯ শতাংশে নেমে আসে।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.