ওপেক থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা আরব আমিরাতের

তেল উৎপাদনকারী দেশের জোট ওপেক থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। প্রায় ৬০ বছর ধরে ওপেকের সদস্য থাকার পর এই জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিল দেশটি।

আরব আমিরাত বলেছে, ”দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত ও অর্থনৈতিক দৃষ্ঠিভঙ্গি এবং পরিবর্তনশীল জ্বালানি পরিস্থিতির” কারণে তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আমিরাতের এই সিদ্ধান্তকে ওপেক জোটের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। একজন বিশ্লেষক এক সদস্যের বেরিয়ে যাওয়ার মতো সিদ্ধান্তকে ‘ওপেকের শেষ অধ্যায়ের শুরু’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

দেশটির জ্বালানি মন্ত্রী জানিয়েছেন, এই জোটের অধীনে কোনো দায়বদ্ধতা না থাকায় এখন তারা জ্বালানি নীতি নির্ধারণে আরও বেশি নমনীয়তা ও স্বাধীনতা পাবেন।

১৯৬৭ সালে ওপেকের সদস্য হয়েছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটি বেরিয়ে যাওয়ার পর তেল রপ্তানিকারক এই জোটে সদস্য সংখ্যা দাঁড়াবে ১১-তে।

এমএসটি ফাইন্যান্সিয়ালের জ্বালানি গবেষণা প্রধান সল কাভোনিক বলেন, এটি মূলত ওপেকের শেষ হওয়ার শুরু। সংযুক্ত আরব আমিরাত বেরিয়ে যাওয়ায় ওপেক তাদের উৎপাদন ক্ষমতার প্রায় ১৫ শতাংশ হারাবে। এছাড়া দেশটি ছিল এই জোটের অন্যতম অনুগত সদস্য।

ওপেকের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, আরব আমিরাত বছরে ২৯ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করে। অন্যদিকে, ওপেকের অঘোষিত নেতা সৌদি আরব উৎপাদন করে ৯০ লাখ ব্যারেল তেল।

সল কাভোনিক বলেন, ওপেক জোটকে টিকিয়ে রাখতে এখন সৌদি আরবকে বেশ বেগ পেতে হবে। জোটের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণের মূল দায়ভার এখন এককভাবে তাদের ওপরই বর্তাবে।

তিনি আরও আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের পথ ধরে অন্য সদস্যরাও এই জোট থেকে বেরিয়ে যেতে পারে। এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি এবং তেলের বাজারে এক আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

১৯৬০ সালে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সৌদি আরব এবং ভেনিজুয়েলা- এই পাঁচটি দেশের হাত ধরে ওপেক গঠিত হয়েছিল। সদস্য দেশগুলোর জন্য স্থিতিশীল আয় নিশ্চিত করতে তেল উৎপাদন সমন্বয় করাই ছিল এই জোটের মূল লক্ষ্য। বিগত বছরগুলোতে এই জোটের সদস্য সংখ্যা বারবার পরিবর্তিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠাতা পাঁচ সদস্য ছাড়াও বর্তমানে এই জোটে আলজেরিয়া, ইকুয়েটোরিয়াল গিনি, গ্যাবন, লিবিয়া, নাইজেরিয়া এবং কঙ্গো প্রজাতন্ত্র অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.