জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটানো এবং তা বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার দায়বদ্ধ। সরকার দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও জনকল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
সোমবার জাতীয় সংসদের স্পিকারের কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারাহ কুক তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে স্পিকার এসব কথা বলেন।
স্পিকার বলেন, দেশে মানসম্মত ও কারিগরি শিক্ষার প্রসারে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়ের জনগণ এবং প্রান্তিক কৃষকদের সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন উদ্যোগ সর্বমহলে প্রশংসিত হচ্ছে। সর্বশেষ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছিল অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক, যা দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে আরও সুদৃঢ় করেছে।
বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের প্রসঙ্গ তুলে স্পিকার বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবে বন্ধুত্বপূর্ণ ও দৃঢ়। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় যুক্তরাজ্যের জনগণের সমর্থনের কথাও তিনি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্র ব্যবস্থা যুক্তরাজ্যের ওয়েস্টমিনস্টার পদ্ধতি অনুসরণ করে এবং ১৯৯১ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাৎকালে তারা দুই দেশের মধ্যে শিক্ষাক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধি, প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং অভিবাসন সংকট ও এর সমাধান নিয়ে মতবিনিময় করেন।
স্পিকার বলেন, বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার মানোন্নয়নে যুক্তরাজ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এ সময় হাইকমিশনার সারাহ কুক বলেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় যুক্তরাজ্য সবসময় পাশে থাকবে। তিনি চলমান মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি উল্লেখ করে বলেন, ব্রিটিশ সরকার যেকোনো যুদ্ধ ও সংঘাত নিরুৎসাহিত করে এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানকে সমর্থন করে।
হাইকমিশনার জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় হাফিজ উদ্দিন আহমদকে অভিনন্দন জানান। জবাবে স্পিকার যুক্তরাজ্যের সঙ্গে সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গঠন এবং দুই দেশের সংসদীয় প্রতিনিধিদলের সফর বিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সাক্ষাৎকালে যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনের প্রতিনিধিদলের সদস্য এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বাসস



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.