যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা থমকে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে।
গত সপ্তাহেও ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার আশা ছিল। তবে সেই সম্ভাবনা ভেস্তে যাওয়ার পর গত রোববার ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ২ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
দফায় দফায় ওঠানামার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম নির্ধারণের প্রধান মানদণ্ড ‘ব্রেন্ট ক্রুড’ আজ (সোমবার) জিএমটি ১টা ৩০ মিনিটে ১০৬ দশমিক ৯৯ ডলারে স্থির হয়েছে।
তবে শান্তি আলোচনার এই অচলাবস্থার প্রভাব পড়েনি এশিয়ার শেয়ারবাজারগুলোতে। সোমবার সকালে লেনদেনের শুরুতেই সূচক ঊর্ধ্বমুখী দেখা গেছে। জাপানের প্রধান শেয়ারবাজার নিক্কেই ২২৫-এর সূচক শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে।
এদিকে গত শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দুই বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের পাকিস্তান সফর বাতিল করেছেন। মূলত দুই পক্ষের মধ্যে সরাসরি কোনো আলোচনার আগেই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ইসলামাবাদ ত্যাগ করায় ট্রাম্প এই সিদ্ধান্ত নেন।
কূটনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনের পথ খুঁজতে আজ সোমবার রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে পৌঁছেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। সেখানে তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ দেশটির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন।
এর আগে রোববার সংক্ষিপ্ত সফরে ওমান গিয়েছিলেন আরাগচি। মূলত ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে বিদ্যমান ভঙ্গুর অস্ত্রবিরতি নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যেই তিনি এসব সফর করছেন।
এদিকে গত সপ্তাহে দুই পক্ষের মধ্যে চলা দুই সপ্তাহের অস্ত্রবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে যুদ্ধ অবসানে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমার কথা উল্লেখ করেননি তিনি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যস্থতাকারীরা বর্তমান অচলাবস্থা নিরসনে হিমশিম খাচ্ছেন। এর মধ্যেই হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর তেহরানের হুমকির মুখে এই পথে নৌযান চলাচল একেবারেই সীমিত হয়ে পড়েছে। এর ফলে বিশ্বের তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের একটি বড় অংশ স্থবির হয়ে পড়েছে।
সামুদ্রিক গোয়েন্দা সংস্থা উইন্ডওয়ার্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার মাত্র ১৯টি বাণিজ্যিক জাহাজ এই প্রণালি অতিক্রম করেছে। অথচ স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের মোট তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়েই সরবরাহ করা হয়।
জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থার (আঙ্কটাড) হিসেবে, গত ফেব্রুয়ারির শেষদিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে এই জলপথ দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ১২৯টি জাহাজ চলাচল করতো।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.