উদ্যোক্তাবান্ধব বাজেট ও কর কাঠামো সহজ করার আহ্বান

আসন্ন জাতীয় বাজেটে উদ্যোক্তাবান্ধব নীতিমালা প্রণয়ন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে বাস্তবমুখী উদ্যোগ এবং কর কাঠামো সহজ করার ওপর জোর দিয়েছেন উদ্যোক্তা-ব্যবসায়ী ও খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

তারা আবাসন খাতে নিবন্ধন ব্যয় কমানো, বিভিন্ন উৎসে কর হ্রাস, ব্যাংক সুদের হার এক অঙ্কে নামিয়ে আনা এবং স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি ও জ্বালানি খাতে বরাদ্দ বাড়ানোসহ বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেছেন। তাদের মতে, এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত হবে, উৎপাদন ব্যয় কমবে এবং সামগ্রিক অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে।

রোববার (২৬ এপ্রিল) জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২০২৭ : ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে তারা এসব কথা বলেন। ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্টস অ্যান্ড বিজনেসমেন ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন-এর উদ্যোগে এ গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ড. মোহাম্মদ আব্দুল মজিদ বলেন, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বাস্তবমুখী, সময়োপযোগী ও ব্যবসাবান্ধব বাজেট প্রণয়ন অত্যন্ত জরুরি। তিনি কর ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি এবং উদ্যোক্তাবান্ধব নীতিমালা প্রণয়নের প্রস্তাব দেন।

আবাসন খাতের সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-এর নব নির্বাচিত সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুর রাজ্জাক আবাসন খাতে নিবন্ধন ব্যয় কমানোর দাবি জানান। তিনি বলেন, আমাদের জায়গা কম, কৃষি জমা রক্ষা করতে হবে। এজন্য পরিকল্পনা করে আমাদের অবশ্যই হাইরাইজ বিল্ডিং বানাতে হবে।

তিনি বলেন, করনীতি হওয়া উচিত বিনিয়োগবান্ধব, বাস্তবমুখী এবং দীর্ঘমেয়াদি। নতুন করনীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে বাজারের বাস্তবতা, বিনিয়োগের পরিবেশ এবং জাতীয় অর্থনীতির বৃহত্তর স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। আবাসন খাত শক্তিশালী হলে অর্থনীতি শক্তিশালী হবে, কর্মসংস্থান বাড়বে এবং একটি পরিকল্পিত, আধুনিক বাংলাদেশ গঠনের পথ আরও সুগম হবে বলেও মনে করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে রিহ্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. মো. হারুন অর রশিদ ফ্ল্যাট দ্বিতীয় বার বিক্রির ক্ষেত্রে কর যৌক্তিক করার দাবি জানান। ব্যবসায়ীরা অনেক চাপে আছে এমন মন্তব্য করে টিডিএস কমানোর দাবি জানান তিনি।

গোলটেবিল বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্ট অ্যান্ড বিজনেসমেন ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের সভাপতি মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশের শিল্প ও ব্যবসা খাতকে টেকসইভাবে এগিয়ে নিতে উদ্যোক্তাদের সমস্যা, সম্ভাবনা ও প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়ে বাজেট প্রণয়ন করতে হবে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য কর সহায়তা, সহজ শর্তে ঋণ এবং উৎপাদন ব্যয় হ্রাসে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

বৈঠকে বক্তারা স্বাস্থ্য খাতে পর্যাপ্ত বরাদ্দ বৃদ্ধি, সরকারি হাসপাতালের সেবার মানোন্নয়ন, ওষুধ শিল্পের বিকাশ এবং চিকিৎসা ব্যয় কমানোর দাবি জানান। একই সঙ্গে শিক্ষা খাতে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে বরাদ্দ বৃদ্ধি, কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষায় বিশেষ গুরুত্বারোপ এবং গবেষণা খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর জোর দেন।

খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষি ও খাদ্য খাতে ভর্তুকি ও বরাদ্দ বৃদ্ধি, কৃষকদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ এবং খাদ্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি শিল্প ও বিনিয়োগ খাতে নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য প্রণোদনা, শিল্পাঞ্চল সম্প্রসারণ, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, রপ্তানি খাতের উন্নয়ন এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে বাস্তবসম্মত নীতিমালার দাবি তোলা হয়।

বক্তারা আরও বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি, অবকাঠামো উন্নয়ন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, পরিবহন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে বরাদ্দ বৃদ্ধি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করবে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন-এর পরিচালক মোজাম্মেল হক ভুঁইয়া ব্যাংকের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামার দাবি জানান। বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন-এর পরিচালক মনিরুজ্জামান মনির দ্রুত জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর জোর দেওয়ার আহ্বান জানান।

অর্থসূচক/

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.