প্রকল্প ব্যয়ে মিতব্যয়ী হওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে আর্থিক শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রকল্প ব্যয়ে সাশ্রয়ী হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। ব্যয়ের খাতগুলোর যৌক্তিকতা যাচাই-বাছাইয়ের ওপরও জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

রবিবার বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একনেক-এর বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি বলেন, জাতীয় তহবিল ব্যবস্থাপনার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অত্যন্ত স্পষ্ট ছিল। সকল উন্নয়ন প্রকল্প পর্যালোচনা করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। যেন সেগুলো বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে গৃহীত সামগ্রিক উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ- সরকারকে অবশ্যই ব্যয়ের ক্ষেত্রে মিতব্যয়ী হতে হবে এবং অনুমোদন দেওয়ার আগে প্রতিটি ব্যয়ের প্রয়োজনীয়তা কঠোরভাবে বিবেচনায় নিতে হবে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সভায় ১৩ হাজার ৪৪৫ কোটি টাকার ১৪টি প্রকল্প একনেক কমিটি অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ৮ হাজার ৮৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা, প্রকল্প ঋণ ৫ হাজার ৩৪০ কোটি ২৬ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ১৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে নতুন প্রকল্প ৫টি ও সংশোধিত প্রকল্প ৫টি এবং মেয়াদ বৃদ্ধি প্রকল্প ৪টি।

সভায় অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়নমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, কৃষি ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, শিল্প, বস্ত্র ও পাট এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকিসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ অংশগ্রহণ করেন।

আজকের সভায় অনুমোদিত ১৪টি প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে- স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এক্সপান্ডিং অ্যাকসেস টু ইনটিগ্রেটেড হেলথ কেয়ার ফর দ্যা আরবান পপুলেশন প্রকল্প; অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাস্টমস আধুনিকায়ন ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (১ম সংশোধন) প্রকল্প; মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পিপিআর রোগ নির্মূল এবং ক্ষুরারোগ নিয়ন্ত্রণ (৩য় সংশোধন) প্রকল্প। এছাড়া স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের ৪টি প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে, রেসিলিয়েন্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফর অ্যাডাপটেশন এন্ড ভালনারেবল রিডাকশন (১ম সংশোধিত) প্রকল্প; চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন পরিচ্ছন্নতা কর্মী নিবাস নির্মাণ প্রকল্প; ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন (২য় সংশোধিত) প্রকল্প; ঢাকা শহরে জরুরি পানি সরবরাহ প্রকল্প।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের ৫টি প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে- বাংলাদেশের ময়মনসিংহ বিভাগে পাঁচটি জলবায়ু সহনশীল সেতু নির্মাণ প্রকল্প; সীমান্ত সড়ক (রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পার্বত্যজেলা) নির্মাণ প্রকল্প-(২য় পর্যায়); বৈরাগীরপুল (বরিশাল)-টুমচর-বাউফল (পটুয়াখালী) জেলা মহাসড়ক (জেড-৮৯১০) যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ (১ম সংশোধিত) প্রকল্প; বরিশাল-ভোলা-লক্ষ্মীপুর জাতীয় মহাসড়কের (এন-৮০৯) বরিশাল (চর কাউয়া) থেকে ভোলা (ইলিশা ফেরী ঘাট) হয়ে লক্ষ্মীপুর পর্যন্ত যথাযথমান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ (১ম সংশোধিত) প্রকল্প; বরিশাল (দিনারেরপুল)-লক্ষ্মী পাশা-দুমকী জেলা মহাসড়কের ১৪তম কিলোমিটারে রাঙ্গামাটি নদীর ওপর গোমা সেতু নির্মাণ (১ম সংশোধিত) প্রকল্প।

এছাড়া রেলপথ মন্ত্রণালয়ের ‘বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের রেলপথ রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনর্বাসন (১ম পর্যায়) প্রকল্প’ এবং ‘মধুখালী থেকে কামারখালী হয়ে মাগুরা শহর পর্যন্ত ব্রডগেজ রেলপথ নির্মাণ (১ম সংশোধন) প্রকল্প’ অনুমোদন করা হয়েছে।

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.