জ্বালানি সংকটে মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ হওয়ার শঙ্কা, সরকারের কাছে অ্যামটবের চিঠি

দেশব্যাপী বিদ্যুত সরবরাহে মারাত্মক বিঘ্ন ও তীব্র জ্বালানি সংকটে মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ হয়ে যাওয়ার -শঙ্ক প্রকাশ করেছে মোবাইল টেলিকম অপারেটরদের সংগঠন অ্যামটব।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) এমন সংকটের কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন বা বিটিআরসিকে চিঠি দিয়েছে সংগঠনটি।

অ্যামটব বলছে “সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ ছাড়া নিরবচ্ছিন্ন সেবা বজায় রাখা সম্ভব নাও হতে পারে। টেলিকম নেটওয়ার্ক বন্ধ হয়ে গেলে জরুরি সেবা, দূর্যোগ মোকাবেলা, আইনশৃঙ্খলা, টাকা লেনদেন, অনলাইনে সরকারি কাজ ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম-সবকিছুই মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে”।

এদিকে বিটিআরসির ভাইস-চেয়ারম্যান মো. আবু বকর ছিদ্দিকের বরাত দিয়ে বিবিসি বাংলা জানিয়েছে, সরকার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে।

যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল, ইরান যুদ্ধে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ হিসেবে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। যার প্রভাব পড়ে পুরো বিশ্বে। কেননা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও তেল পরিবহনের প্রধান জলপথ এই হরমুজ প্রণালি।

হরমুজ প্রণালি বন্ধের প্রভাব বৈশ্বিক বানিজ্যে পড়লে সংকট সমাধানে একেক দেশ একেক ধরনের পদক্ষেপ নেয়। যদিও বাংলাদেশের সরকার এখনো পর্যন্ত দেশে জ্বালানি সংকট নেই বলেই দাবি করছে।

এরইমধ্যে জ্বালানি তেলের দামও বাড়িয়েছে সরকার। তবে জ্বালানির সংকট নিয়ে বাস্তব পরিস্থিতি যে ভিন্ন অ্যামটবের কথাতেই তা অনেকটা স্পষ্ট।

লোডশেডিংয়ের কারণে ডিজেল ও অকটেনের ব্যবহার বেড়েছে জানিয়ে শনিবার বিটিআরসিকে দেওয়া চিঠিতে বলা হয়েছে, গত কয়েকদিন ধরে কমার্শিয়াল গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ না পাওয়ায় ডিজেল চালিত জেনারেটরের ওপর মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটরদের নির্ভর করতে হচ্ছে।

দেশের তিনটি বেসরকারি মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোন, রবি এবং বাংলালিংকের টাওয়ার (বিটিএস) এবং ডেটা সেন্টার চালু রাখতে প্রতিদিন ৭৯ হাজার ৬২১ লিটার ডিজেল এবং ১৯ হাজার ৮৫৯ লিটার অকটেনের প্রয়োজনীয়তার কথা চিঠিতে জানিয়েছে অ্যামটব।

লোডশেডিং এর বিষয়ে চিঠিতে বলা হয়েছে, “ঝড়বৃষ্টির সময় অনেক এলাকায় প্রতিদিন গড়ে পাঁচ থেকে আট ঘণ্টা টানা বিদ্যুৎ থাকছে না এবং তা মেরামত করতে অনেক দেরি করছে কর্তৃপক্ষ। ফলে ডাটা সেন্টার, সুইচিং সুবিধা এবং ট্রান্সমিশন হাবের মতো টেলিযোগাযোগের মূল অবকাঠামোগুলি প্রায়ই গ্রিড বিদ্যুৎ ছাড়াই চলছে, যা পুরো নেটওয়ার্কের স্থিতিশীলতাকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলছে।”

“দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ডিজেল জেনারেটরের ওপর পুরোপুরি নির্ভর করতে হচ্ছে। টাওয়ারগুলোর (বিটিএস সাইটের) পাশাপাশি ডেটা সেন্টারগুলোও জেনারেটরে চালাতে হচ্ছে। একেকটি ডেটা সেন্টারে ঘণ্টায় প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ লিটার ডিজেল প্রয়োজন হয়, যা প্রতিদিন প্রায় চার হাজার লিটারে গিয়ে দাঁড়ায়। স্থানীয় পেট্রোল পাম্পগুলো এত বিপুল পরিমাণ ডিজেল সরবরাহ করতে পারছে না” বলেও জানিয়েছে অ্যামটব।

অ্যামটবের মহাসচিব লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ জুলফিকার (অব:) বলেন, “বিদ্যুৎ বা জ্বালানী সরবরাহের কারণে মোবাইল অপারেটরদের ডাটা সেন্টার বন্ধ বা বাধাগ্রস্ত হলে এর প্রভাব খুব দ্রুত এবং ব্যাপকভাবে পুরো নেটওয়ার্কে ছড়িয়ে পড়তে পারে।”

ডাটা সেন্টার বন্ধ হলে পুরো নেটওয়ার্কই বন্ধ হয়ে যায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, “অপারেটরদের ব্যাকআপ থাকে কিন্তু যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে তাতে কতোটুকু ব্যাকআপ দেওয়া সম্ভব হবে তা নিয়েও সন্দেহ আছে। আমাদের মনে রাখতে হবে ডাটা সেন্টারই নেটওয়ার্ক অবকাঠামোর “মস্তিষ্ক” এটা বন্ধ মানে সমগ্র নেটওয়ার্ক বন্ধ হয়ে যাওয়া।”

পরিস্থিতি বিবেচনায় মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন অ্যামটব একটি উচ্চ পর্যায়ের সভা করাসহ বেশ কিছু প্রস্তাব দিয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে, প্রধান ডেটা সেন্টার ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা, প্রয়োজনে ডিপো থেকে সরাসরি জরুরি ভিত্তিতে জ্বালানি সরবরাহের ব্যবস্থা করার প্রস্তাবও দিয়েছে সংগঠনটি।

অন্যদিকে, এই সংকট ‘নলেজে বা জানা আছে’ বলে জানিয়েছে মোবাইল অপারেটরদের নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান বিটিআরসি।

সমস্যা সমাধানে এরইমধ্যে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে বৈঠক আয়োজন ও চিঠি চালাচালির কথা জানিয়েছেন বিটিআরসির ভাইস-চেয়ারম্যান মো. আবু বকর ছিদ্দিক।

তিনি বলেন, ” মূলত চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে একটা মিটিং ইতিমধ্যে হয়েছে বা হবে। মন্ত্রী পর্যায়ে হচ্ছে…. মোবাইল অপারেটরদের সমস্যাগুলো যাতে সমাধান করা যায়, সচিবও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে, সো ফার আই নো। ইনশাল্লাহ এটা সলভ হয়ে যাবে দ্রুত। বিষয়টা দেখা হচ্ছে ওইভাবে।”

 

 

 

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.