৪০ দিনের যুদ্ধে ১৩ মার্কিন সেনা নিহত, আহত ৪১৫: পেন্টাগন

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বাহিনীর বোমাবর্ষণের মধ্যে দিয়ে শুরু হয় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ। টানা ৪০ দিন এ যুদ্ধ চলার পর গত ৮ এপ্রিল অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান।

এই ৪০ দিনের যুদ্ধে মোট নিহত এবং আহত মার্কিন সেনাদের সংখ্যা জানিয়ে সোমবার একটি বিবৃতি দিয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদরদপ্তর পেন্টাগন। সেই বিবৃতির তথ্য অনুসারে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ এপ্রিল পর্যন্ত ইরানি প্রতিরক্ষা বাহিনীর হামলায় নিহত হয়েছেন ১৩ জন এবং আহত হয়েছেন ৪১৫ জন। ইরানের পরমাণু প্রকল্প এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে গত দুই যুগ ধরে দেশটির সঙ্গে দ্বন্দ্ব চলছে যুক্তরাষ্ট্রের। দুই ইস্যুতে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে সংলাপ চলে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে। ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো প্রকার সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই শেষ হয় সেই সংলাপ।

তার পরের দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একই সময়ে ইরানে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েলও।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রথম দিনই নিহত হন আলী খামেনি, যিনি টানা ৩৭ বছর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ছিলেন। এছাড়া ক্ষমতাসীন ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকারের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ এবং জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায়। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, গত ৪০ দিনের যুদ্ধে দেশটিতে নিহত হয়েছেন মোট ১ হাজার ৩ শতাধিক মানুষ।

গত ৮ এপ্রিল থেকে ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতি শুরু হয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে। আগামী ২২ এপ্রিল এই বিরতির মেয়াদ শেষ হবে। প্রেসিডেন্ট ডোলান্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যে জানিয়েছেন, ১৪ দিন যুদ্ধবিরতির সময়সীমার মধ্যে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর না হলে এই বিরতির মেয়াদ আর বাড়াতে তিনি আগ্রহী নন।

অর্থসূচক/

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.