হামের টিকাদান কর্মসূচিতে ১৫ লাখ সিরিঞ্জ দিচ্ছে ব্র্যাক, মাঠে থাকছেন ২৪ হাজার স্বাস্থ্যসেবিকা

হামের প্রাদুর্ভাব রোধে আজ সোমবার থেকে সারা দেশে শুরু হওয়া টিকাদান কর্মসূচিতে জনবল ও চিকিৎসা সামগ্রী দিয়ে সহায়তা করছে ব্র্যাক। এই কর্মসূচিতে ব্র্যাকের পক্ষ থেকে ১৫ লাখ সিরিঞ্জ সরবরাহ করা হচ্ছে। দেশের ৩৬টি জেলায় ব্র্যাকের ২৪ হাজারেরও বেশি স্বাস্থ্যসেবিকা শিশুদের টিকাকেন্দ্রে নিয়ে আসতে সহায়তা করবেন।

সোমবার (২০ এপ্রিল) প্রতিষ্ঠানটি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সরকারের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) আজ ২০ এপ্রিল থেকে দেশের সব উপজেলা, জেলা, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনে টিকাদান শুরু করেছে। এই কর্মসূচিতে ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের টিকা দেওয়া হবে। এর আগে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর গত ৫ এপ্রিল ১৮ জেলার অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ৩০টি উপজেলা ও ১৩টি পৌরসভায় হাম-রুবেলার টিকাদান শুরু হয়।

হাম-রুবেলার এই টিকাদান কর্মসূচিতে সিরিঞ্জ সরবরাহসহ ইপিআইকে নানাভাবে সহায়তা করছে ব্র্যাক। ব্র্যাকের পক্ষ থেকে ইপিআইকে গত ১৮ এপ্রিল ২ লাখ ১৬ হাজার মিক্সিং সিরিঞ্জ সরবরাহ করা হয়। আজ ২০ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ৬ লাখ ৪৮ হাজার সিরিঞ্জ হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি সিরিঞ্জগুলো আগামী ৩০ এপ্রিলের মধ্যে পর্যায়ক্রমে সরবরাহ করা হবে।

এ বিষয়ে ব্র্যাকের স্বাস্থ্য কর্মসূচির ঊর্ধ্বতন পরিচালক মো. আকরামুল ইসলাম বলেন, এই গুরুত্বপূর্ণ টিকাদান কর্মসূচিতে বাংলাদেশ সরকারের সহযোগী হতে পেরে ব্র্যাক গর্বিত এবং প্রতিটি শিশুর কাছে জীবনরক্ষাকারী টিকা পৌঁছে দিতে তারা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

টিকাদান কর্মসূচিতে জনগণকে উৎসাহিত করতে ৩৬ জেলার ২৮০টি উপজেলার ইউনিয়ন পর্যায়ে সর্বোচ্চ ২ দিন ব্র্যাকের অর্থায়নে মাইকিং করা হবে। পাশাপাশি ব্র্যাকের স্বাস্থ্যসেবিকারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে অভিভাবকদের সচেতন করবেন এবং শিশুদের টিকাকেন্দ্রে নিতে উদ্বুদ্ধ করবেন। ২০ এপ্রিল থেকে আগামী ১২ মে পর্যন্ত এই কার্যক্রম চলবে।

এছাড়া ব্র্যাকের প্রায় ৩ হাজার স্বাস্থ্যকর্মী টিকাদান ও নিবন্ধন কার্যক্রমে সহায়তা করবেন। টিকাদান পরিচালনায় সহায়তার জন্য ব্র্যাকের পক্ষ থেকে দুই জন সহকারী ইপিআই সদর দপ্তরে দায়িত্ব পালন করবেন।

সরকারের সহযোগী হিসেবে জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে আসছে ব্র্যাক। মানবিক ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোসহ বন্যা, সাইক্লোন ও ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাতেও সহায়তা দিয়ে আসছে প্রতিষ্ঠানটি।

অর্থসূচক/

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.