দেশে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা আর বাড়ুক সেটা সরকার চায় না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
তিনি বলেন, আমরা জনগণের দ্বারা নির্বাচিত এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ। তাই সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরি করতে হবে। সে কারণে আমরা কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদ মওকুফ করেছি, দারিদ্র্য নিরসনে ফ্যামিলি কার্ড চালু করেছি, কৃষক কার্ড চালু করেছি এবং এটা প্রধানমন্ত্রী প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকেই সিদ্ধান্ত নিয়ে করার অনুমতি দিয়েছেন।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম আয়োজিত ‘সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, আর্থিক সক্ষমতা ও সরকারের ১৮০ দিনের পরিকল্পনা’ বিষয়ক এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
তিতুমীর বলেন, বিনিয়োগে স্থবিরতা, কর্মসংস্থানের সংকট এবং দারিদ্র্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। কিন্তু এ পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে বাস্তবসম্মত ও জনকল্যাণকে প্রাধান্য দিয়ে প্রস্তুতি গ্রহণ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, দারিদ্র্য গত তিন বছর ধরে বাড়ছে। সুতরাং আমাদের সার্বজনীন সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর দিকে যেতে হবে। ১৩টি জেলায় ৩৭ হাজার ৮১৪ জনের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হচ্ছে। এরচেয়ে বড় এবং জনবান্ধব সংস্কার কি হয়?
তিনি বলেন, কৃষিতে উৎপাদনশীলতা হ্রাস পেয়েছে। তাহলে সংস্কারে যেতে হবে। সবুজ বিপ্লব ও খাল খনন আমরাই করেছি। কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে আমরা কাজ করছি।
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর আরও বলেন, বর্তমান সময়ে প্রতিষ্ঠানগত দুর্বলতা, বিনিয়োগে স্থবিরতা এবং কর্মসংস্থানের সংকট একটি বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। তার মতে, এ পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে প্রস্তুতি গ্রহণ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে মূল্য সমন্বয়ের ক্ষেত্রে বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করা জরুরি, কারণ এর প্রভাব সরাসরি সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর পড়ে। একইভাবে কৃষি উৎপাদন ব্যয়ের দিকটিও বিবেচনায় নিতে হবে, বিশেষ করে ডিজেলের দাম ও মৌসুমি কৃষি কার্যক্রমের সময়।
তিনি আরও বলেন, সরকারের উচিত জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে বাস্তবভিত্তিক ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা।
বর্তমান সময়ের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিতুমীর বলেন, এই চ্যালেঞ্জ নতুন নয়—এটা আমাদের ইতিহাসেরই পুনরাবৃত্তি। কিন্তু পার্থক্য হলো, আজ প্রতিষ্ঠান দুর্বল, বিনিয়োগ স্থবির, আর জনগণের জীবনযাত্রা আরও সংকটে।
‘আমাদের কাজ তাই কেবল পরিস্থিতি দেখা নয়—প্রস্তুতি নেওয়া, সময়মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া। বাস্তবতা অস্বীকার করে কোনো নীতি টেকে না।’
তিনি বলেন, বিনিয়োগ থেমে গেলে কর্মসংস্থান থেমে যায়, কৃষকের খরচ বাড়লে খাদ্যনিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ে। আর এই বোঝা সবশেষে সাধারণ মানুষকেই বহন করতে হয়। তাই প্রশ্ন একটাই—আমরা কি পুরোনো ভুলের পুনরাবৃত্তি করবো, নাকি বাস্তবতার আলোকে জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নেবো?
তিনি বলেন, এটাই সংগ্রামের সময়, আর সিদ্ধান্তের দায় জনগণের পক্ষেই নিতে হবে।
দৌলত আক্তার মালা-এর সভাপতিত্বে সেমিনারে মোস্তাফিজুর রহমান, মাহমুদ হাসান খান বাবু, মোহাম্মদ হাতেম এবং আবুল কাসেম উপস্থিত ছিলেন।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.