দেশে গত এক মাসে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে প্রান হারিয়েছে ১৯৮ শিশু । গতকাল বুধবার (১৫ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশনস অ্যান্ড কন্ট্রোল রুমের নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মার্চের মাঝামাঝি থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গে প্রাণ হারিয়েছে ১৯৮ শিশু। একই সময়ে কয়েক হাজার শিশু আক্রান্ত হয়েছে, আর উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভিড় করেছে বহু পরিবার। প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে আসছে মৃত্যুর খবর, যা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাথমিক পর্যায়েই কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়াই পরিস্থিতিকে এই পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে আক্রান্তদের আলাদা রাখার (আইসোলেশন) ব্যবস্থা জোরদার করা এবং দ্রুত বিস্তৃত টিকাদান কার্যক্রম চালু করা জরুরি ছিল। পাশাপাশি চিকিৎসকদের জন্য নির্দিষ্ট গাইডলাইন ও প্রশিক্ষণের অভাবও বড় একটি দুর্বলতা হিসেবে উঠে এসেছে।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হাম ও সন্দেহভাজন হামজনিত কারণে ৩ শিশু মারা গেছে। এর মধ্যে ১ জনের মৃত্যু নিশ্চিতভাবে হামজনিত বলে জানা গেছে। একই সময়ে নতুন করে ৭৬ শিশু আক্রান্ত হয়েছে।
বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। যদিও শুরুর দিকে মৃত্যু বেশি ছিল রাজশাহী বিভাগে। ঢাকায় এক মাসে ৯৪ শিশু মারা গেছে। এদের মধ্যে নিশ্চিত হামে ১৮ এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ৭৬ জনের মৃত্যু হয়। ঢাকায় হাম ও উপসর্গের রোগী ১০ হাজার ৩০ শিশু। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রাজশাহী বিভাগ, যেখানে ৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের তিনজনের মৃত্যু হয়েছে হামে। অন্যদের মৃত্যু হামের উপসর্গ নিয়ে। এই বিভাগে ৪ হাজার ৫৫৬ শিশু আক্রান্ত হয়েছে। অন্যদিকে সবচেয়ে কম আক্রান্ত হয়েছে রংপুর বিভাগে। এখানে ৬৪৪ শিশু আক্রান্ত হলেও গত এক মাসে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।
দেশে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে ৫ এপ্রিল থেকে, তবে তা এখনো সীমিত পরিসরে। জনস্বাস্থ্য বিশ্লেষকদের মতে, হাম একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ হলেও টিকা কাভারেজ কমে যাওয়া এবং স্বাস্থ্য সচেতনতার অভাবে পরিস্থিতি জটিল হচ্ছে। তারা দ্রুত টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
ইপিআই থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ২০ এপিল থেকে সারা দেশে হাম রুবেলার টিকা কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। নীতিমালা অনুযায়ী, সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির ব্যবস্থাপনায় আপনি শিশুর টিকা কার্ড নিয়ে দেশের যে প্রান্তেই যান না কেন সেখানেই টিকা প্রদান করা হবে। নির্ধারিত কেন্দ্রেই টিকা নিতে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। আপনার শিশুর সুরক্ষায় টিকা নিশ্চিত করুন।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.