চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে দেশে ও বিদেশে প্রায় ২ হাজার ২৮৯ কোটি টাকার সম্পদ জব্দ (ক্রোক) ও অবরুদ্ধ (ফ্রিজ) করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সংস্থাটির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের বিভিন্ন আদেশে এসব সম্পদ জব্দ ও ফ্রিজ করা হয়।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুদকের জনসংযোগ উপ-পরিচালক মো. আক্তারুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
দুদক সূত্রে জানা যায়, জানুয়ারি মাসে ২৯টি আদালতের আদেশে দেশে ও বিদেশে বিপুল পরিমাণ সম্পদ জব্দ ও অবরুদ্ধ করা হয়। এর মধ্যে বিদেশে সবচেয়ে বেশি সম্পদের সন্ধান পাওয়া যায়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ড, ভারত ও ফিলিপাইন-এ ফ্ল্যাট, অ্যাপার্টমেন্ট ও বাণিজ্যিক স্পেস শনাক্ত করে জব্দের আদেশ দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে জানুয়ারিতে জব্দ ও অবরুদ্ধ সম্পদের মোট মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ২ হাজার ২১৬ কোটি টাকা।
জানুয়ারি মাসে জব্দ ও ফ্রিজ করা সম্পদের মধ্যে রয়েছে ৬৯.২৬ একর জমি, ৪টি ভবন, ৬টি ফ্ল্যাট, ১টি বাণিজ্যিক স্পেস, ২টি দোকান, ৬টি গাড়ি এবং ৭৯টি ব্যাংক ও সঞ্চয়ী হিসাব। বিদেশে পাওয়া সম্পদের মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে ৪৪টি ফ্ল্যাট, ফিলিপাইনে ২টি, ৯টি বাণিজ্যিক স্পেস, মালয়েশিয়ায় ৪৭টি, কম্বোডিয়ায় ১১৭টি, থাইল্যান্ডে ২৩টি এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৫৯টি অ্যাপার্টমেন্ট।
অন্যদিকে ফেব্রুয়ারি মাসেও ২৯টি আদালতের আদেশে প্রায় ৭২ কোটি ৪৭ লাখ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ জব্দ বা ফ্রিজ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৫৬.৫৮৯১ একর জমি, ১৪টি ভবন, ২৬টি ফ্ল্যাট, ১২টি প্লট, একটি বাড়ি, ২টি টিনশেড ঘর, ২টি দোকান ও ৬টি গাড়ি। পাশাপাশি ১৪৪টি ব্যাংক হিসাবসহ বিপুল পরিমাণ আর্থিক সম্পদ অবরুদ্ধ করা হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৫ কোটি ২৮ লাখ টাকার বিনিয়োগও রয়েছে।
দুই মাস মিলিয়ে মোট ২ হাজার ২৮৮ কোটি ২০ লাখ ১৩ হাজার ৪৫২ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ জব্দ করেছে দুদক।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.