চট্টগ্রামে ট্রেড–বেইজড মানি লন্ডারিং প্রতিরোধে উচ্চপর্যায়ের পলিসি ডায়ালগ অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) এবং অ্যাসোসিয়েশন অব অ্যান্টি মানি লন্ডারিং কমপ্লায়েন্স অফিসার্স অব ব্যাংকস ইন বাংলাদেশ (এএসিওবিবি)-এর যৌথ উদ্যোগে ট্রেড–বেইজড মানি লন্ডারিং (টিবিএমএল) প্রতিরোধে উচ্চপর্যায়ের একটি পলিসি ডায়ালগ চিটাগাং ক্লাব লিমিটেডে অনুষ্ঠিত হয়।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) কোম্পানিটি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)-এর সম্মানিত ভারপ্রাপ্ত প্রধান মো. মফিজুর রহমান খান চৌধুরী এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)-এর সম্মানিত পরিচালক মো. মোস্তাকুর রহমান। সংলাপে দেশের ব্যাংকিং খাত, কাস্টমস, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।

উক্ত পলিসি ডায়ালগে দুটি প্যানেল ডিসকাশনের আয়োজন করা হয়। প্রথম প্যানেলের বিষয়বস্তু ছিল—
“বাংলাদেশে ট্রেড–বেইজড মানি লন্ডারিং—ব্যাংকিং ঝুঁকি, নিয়ন্ত্রক কাঠামো ও কমপ্লায়েন্স চ্যালেঞ্জ”।

এই প্যানেল ডিসকাশনটি সঞ্চালনা করেন বিএফআইইউ-এর ভারপ্রাপ্ত প্রধান মো. মফিজুর রহমান খান। প্রধান অতিথির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত প্রথম প্যানেল আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা টিবিএমএল-এর পরিবর্তিত ঝুঁকি, স্যাংশনস প্রতিপালন, ট্রেড ফাইন্যান্স পর্যবেক্ষণের ঘাটতি, উন্নত সিডিডি/কেওয়াইসি প্রক্রিয়া এবং ব্যাংক–নিয়ন্ত্রক সংস্থার সমন্বয় জোরদারের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
প্যানেলিস্টরা ঝুঁকি মোকাবিলায় এআই–ভিত্তিক অ্যানোমালি ডিটেকশন, ব্লকচেইন প্ল্যাটফর্ম এবং প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান গ্রহণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।

দ্বিতীয় প্যানেল ডিসকাশনের বিষয়বস্তু ছিল—
“টিবিএমএল প্রতিরোধে গ্লোবাল বেস্ট প্র্যাকটিসেস—সমন্বিত উদ্যোগ ও আগামী দিনের করণীয়”।

দ্বিতীয় প্যানেলে ফ্যাটএফ-এর বৈশ্বিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের নীতিমালা শক্তিশালী করার উপায়, সমন্বিত স্যাংশন স্ক্রিনিং, ক্রস–বর্ডার তথ্য বিনিময় এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষজ্ঞরা ট্রেড–ভিত্তিক মানি লন্ডারিং প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও কৌশল প্রয়োগের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মো. মফিজুর রহমান খান চৌধুরী তার বক্তব্যে বলেন,
“নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত প্রয়াসের মাধ্যমে আমরা দেশে আরও শক্তিশালী, টেকসই ও দায়িত্বশীল কমপ্লায়েন্স কালচার প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হব।”

সংলাপ শেষে অংশগ্রহণকারীরা টিবিএমএল প্রতিরোধে একটি যৌথ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেন। বিএফআইইউ নেতৃত্ব সমাপনী বক্তব্যে এএমএল/সিএফটি প্রতিপালন জোরদার এবং বৈদেশিক বাণিজ্যে স্বচ্ছতা বৃদ্ধিতে দেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

অর্থসূচক/

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.