রিজার্ভ সংকট সামলাতে স্বর্ণ কিনছে উগান্ডার কেন্দ্রীয় ব্যাংক

দেশের রিজার্ভ বাড়াতে উগান্ডার কেন্দ্রীয় ব্যাংক সোনা মজুত করছে। দেশটিতে স্থানীয়ভাবে যে সোনার উৎপাদন হয়, এখন সেই সোনা কিনতে শুরু করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আন্তর্জাতিক আর্থিক বাজারের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা রিজার্ভ বাড়ানোর অন্যতম উদ্দেশ্য বলে জানানো হয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক সংবাদে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

রয়টার্সের বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই পদক্ষেপের ফলে উগান্ডার সোনা রপ্তানি কমে যেতে পারে। আফ্রিকার এ দেশটি থেকে সম্প্রতি সোনা রপ্তানি বাড়ছিল। গত বছর সোনা রপ্তানি করে উগান্ডা ২৩০ কোটি ডলার আয় করে। এক বছর আগে সোনা রপ্তানি থেকে দেশটির আয় ছিল ২০ কোটি ১০ লাখ ডলার।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনার পর তারা দেশের অভ্যন্তর থেকে সোনা ক্রয় কর্মসূচি শুরু করেছে। ওই প্রতিবেদনে উগান্ডার অর্থনীতির হালনাগাদ পরিস্থিতি সম্পর্কে বলা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ‘বৈদেশিক মুদ্রার মজুত বাড়াতে এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক বাজারের সঙ্গে সম্পর্কিত যে ঝুঁকি রয়েছে, তা সামলাতে সোনা কেনার এই কর্মসূচি সাহায্য করবে।’ তবে আন্তর্জাতিক বাজারে কী ধরনের ঝুঁকি রয়েছে, ব্যাংক অব উগান্ডা সে সম্পর্কে নির্দিষ্ট করে কিছু বলেনি।

জুন মাসের জন্য তৈরি করা ওই প্রতিবেদনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, এপ্রিল শেষে উগান্ডার বৈদেশিক মুদ্রার মজুত ছিল ৩৫০ কোটি ডলার। ওই অর্থ দিয়ে দেশটির ৩ দশমিক ২ মাসের আমদানি দায় মেটানো সম্ভব। এক বছর আগে উগান্ডার যে রিজার্ভ ছিল, তা দিয়ে ৩ দশমিক ৪ মাসের আমদানি দায় মেটানো যেত।

গত এপ্রিল মাসে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছিল, ক্রমবর্ধমান বিদেশি ঋণ পরিশোধ করার কারণে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুত কমে গেছে। পাশাপাশি স্থানীয় মুদ্রার মান পড়ে যাওয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রয়োজনীয় বৈদেশিক মুদ্রাও কিনতে পারছে না।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উগান্ডার সোনা উৎপাদন সক্ষমতা অনেকটাই বেড়েছে। এর একটি কারণ, বেলজিয়ামের কোম্পানি অ্যালান গোয়েৎজসহ বেশ কিছু বিনিয়োগকারী দেশটিতে সোনা প্রক্রিয়াজাত করার সুযোগ–সুবিধা চালু করেছে। তবে সমালোচকেরা মনে করেন, কিছু সোনা সম্ভবত গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলীয় এলাকা থেকেও উগান্ডায় ঢুকছে।

অর্থসূচক/এমএস

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.