তলানিতে থেকে আইপিএল শেষ মুম্বাইয়ের

নিকোলাস পুরানের ২৯ বলে ৭৫ রানের ঝড়ের বিপরীতে ডেওয়াল্ড ব্রেভিসকে সঙ্গে নিয়ে রোহিত শর্মা শুরুটা করলেন ভালোভাবেই। ‍উদ্বোধনী জুটিতে ৮৮ রান তোলার পর হঠাৎই পথ হারায় মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। হার্দিক পান্ডিয়াসহ মিডল ব্যাটারদের ব্যর্থতায় বড় হারের অপেক্ষায় ছিল তারা। তবে শেষ দিকে আশা জাগিয়ে ২৮ বলে অপরাজিত ৬২ রানের ইনিংস খেলেছেন নামান ধীর। মুম্বাইয়ের এই ব্যাটারের এমন ইনিংস কেবল হারের ব্যবধানে কমিয়েছে। লক্ষ্ণৌ সুপার জায়ান্টসের বিপক্ষে ১৮ রানে হেরে পয়েন্ট টেবিলে সবার শেষে থেকে আইপিএলের এবারের আসর শেষ করল মুম্বাই। উল্টো দিকে সেরা চারে জায়গা করে নিতে না পারা লক্ষ্ণৌ ১৪ পয়েন্ট নিয়ে বিদায় নিয়েছে ছয়ে থেকে।

ওয়াংখেড়েতে বড় লক্ষ্য তাড়ায় ইশান কিশানকে সরিয়ে ওপেনিংয়ে রোহিতের সঙ্গে পাঠানো হয় ডেওয়াল্ড ব্রেভিসকে। মুম্বাইয়ের এমন পরিকল্পনা অবশ্য কাজেও দিয়েছে বেশ ভালোভাবে। কোন উইকেট না হারিয়ে পাওয়ার প্লেতে ৫৩ রানে যোগ করেন তারা। দারুণ ব্যাটিংয়ে জুটির সেঞ্চুরির পথে ছিলেন ব্রেভিস ও রোহিত। তবে সেটা হতে দেননি নাভিন উল হক। ডানহাতি এই পেসারের হার্দিকের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ২০ বলে ২৩ রান করা ব্রেভিস।

তিনে নেমে সুবিধা করতে পারেননি সূর্যকুমার যাদব। ক্রুনাল পান্ডিয়ার বলে ফিরেছেন রানের খাতা খোলার আগেই। এদিকে আক্রমণাত্বক ব্যাটিংয়ে ২৮ বলে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন রোহিত। যদিও দলের রান একশ হওয়ার আগে আউট হয়েছেন তিনি। ফেরার আগে অবশ্য ৩৮ বলে ৬৮ রানের ইনিংস খেলেছেন রোহিত। এরপর দ্রুতই হার্দিক, ইশান এবং ওয়াদেরার উইকেট হারায় মুম্বাই। শেষ দিকে নামানের ২৮ বলে অপরাজিত ৬২ রানের ইনিংস খেললেও দলকে জেতাতে পারেননি। লক্ষ্ণৌর হয়ে দুটি উইকেট নিয়েছেন নাভিন।

এর আগে টস হেরে ব্যাটিং করতে নেমে শুরুটা ভালো করতে পারেনি লক্ষ্ণৌ। ইনিংসের প্রথম ওভারের তৃতীয় বলেই সাজঘরে ফেরেন দেবদূত পাডিকাল। নুয়ান থুসারার গুড লেংথে পড়া ইনসুইঙ্গারে বলের লাইনে যেতে পারেননি বাঁহাতি ওপেনার। প্যাডে লেগে বল সীমানা পেরিয়ে গেলেও থুসারার আবেদন লেগ বিফোর উইকেট হয়ে ফিরতে হয়েছে তাকে। রিভিউ নিলেও জীবন পাওয়া হয়নি পাডিকালের। তিনে নেমে শুরুটা বেশ ভালো করেছিলেন স্টইনিস।

তাকে অবশ্য ইনিংস খুব বেশি বড় করার সুযোগ দেননি পিযুষ চাওলা। অভিজ্ঞ এই লেগ স্পিনারের অফ স্টাম্পের বাইরের শর্ট ডেলিভারিতে সুইপ করতে গিয়ে বলের লাইন মিস করে লেগ বিফোর উইকেট হয়েছেন ২২ বলে ২৮ রান করা স্টইনিস। চারে নেমে দ্রতই ফিরেছেন দীপক হুদা। চাওলার অফ স্টাম্পের বাইরের ডেলিভারিতে ড্রাইভ করেছিলেন তিনি। হুদার আলতো শটে বল চলে যায় ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে থাকা ওয়াদেরার হাতে।

দারুণভাবে লাফিয়ে ক্যাচ নিলে হুদাকে ফিরতে হয় মাত্র ১১ রানে। এরপর রাহুলের সঙ্গে জুটি বেঁধে মুম্বাইয়ের বোলারদের উপর রীতিমতো তাণ্ডব চালাতে থাকেন পুরান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের মারকুটে এই ব্যাটার হাফ সেঞ্চুরি পেয়েছেন মাত্র ১৯ বলে। সেঞ্চুরির সুযোগ থাকলেও শেষ পর্যন্ত থেমেছেন ২৯ বলে ৭৫ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে। থুসারার অফ স্টাম্পের অনেকটা বাইরেরে ইয়র্কার লেংথ ডেলিভারিতে লং অনের উপর দিয়ে খেলতে চেয়েছিলেন তিনি। সীমানায় দাঁড়িয়ে সূর্যকুমার ক্যাচ নিলে সাজঘরে ফিরতে হয় তাকে।

আগের ম্যাচে হাফ সেঞ্চুরি করা আরশাদ খান অবশ্য এদিন ফিরেছেন রানের খাতা খোলার আগেই। এদিকে ওপেনিংয়ে নেমে রয়ে সয়ে খেলছিলেন রাহুল। সবশেষ দুই ম্যাচে রানের দেখা না পাওয়া লক্ষ্ণৌ অধিনায়ক পঞ্চাশ ছুঁয়েছেন ৩৭ বলে। ধীরগতির ইনিংস খেলে রাহুল ফিরেছেন ৪১ বলে ৫৫ রানে। শেষ পর্যন্ত লক্ষ্ণৌ থামে ৬ উইকেটে ২১৪ রান তুলে। মুম্বাইয়ের হয়ে তিনটি করে উইকেট ভাগ করে নিয়েছেন থুসারা ও চাওলা।

অর্থসূচক/ এএইচআর

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.