ব্যাংকের আমানত তুলে খরচ মেটাচ্ছেন কৃষক ও পোশাককর্মীরা

উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সীমিত আয়ের অনেক মানুষই এখন সঞ্চয় ভাঙছেন। গত বছরের শেষ প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) পোশাককর্মীরা ব্যাংকে থাকা তাঁদের আমানত থেকে ১৮ কোটি টাকা তুলে নিয়েছেন। এই সময়ে কৃষকেরা সঞ্চয় ভেঙেছেন ৯১ কোটি টাকা।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আর মুক্তিযোদ্ধাদের হিসাব থেকে আমানত তুলে নেওয়া হয়েছে ১৪৬ কোটি টাকা। তার বিপরীতে শিক্ষার্থীদের ব্যাংক হিসাবে সঞ্চয়ের পরিমাণ বেড়েছে। শিক্ষার্থীদের ব্যাংক হিসাবে এই তিন মাসে আমানত বেড়েছে ২০৫ কোটি টাকা।

এছাড়া ২০২৩ সালের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে পোশাকশ্রমিকদের ৯ লাখ ৩ হাজার ব্যাংক হিসাবে সব মিলিয়ে ৩০০ কোটি টাকা সঞ্চয় ছিল। কিন্তু অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিক শেষে সেই সঞ্চয় কমে দাঁড়িয়েছে ২৮২ কোটি টাকায়। যদিও এ সময়ে পোশাকশ্রমিকদের ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৯ লাখ ৩৯ হাজার। সেই হিসাবে তিন মাসের ব্যবধানে পোশাকশ্রমিকদের ব্যাংক হিসাব বাড়লেও সঞ্চয়ের পরিমাণ ১৮ কোটি টাকা বা ৬ শতাংশ কমে গেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, একই ঘটনা ঘটেছে কৃষক ও মুক্তিযোদ্ধাদের সঞ্চয় বা আমানতের ক্ষেত্রেও। গত অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে কৃষকদের ব্যাংক হিসাবে থাকা আমানতের পরিমাণ কমে দাঁড়িয়েছে ৫৯২ কোটি টাকায়। কৃষকদের দেড় কোটির মতো ব্যাংক হিসাব রয়েছে।

আমানত কমলেও কৃষকের ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা আগের প্রান্তিকের চেয়ে কিছুটা বেড়েছে। কৃষকের চেয়ে আমানত বেশি কমেছে মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যাংক হিসাবে। তিন মাসে মুক্তিযোদ্ধাদের হিসাবে থাকা আমানত ১৪৬ কোটি টাকা কমে দাঁড়িয়েছে ৮৬৩ কোটি টাকায়। যদিও এই সময়ে মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যাংক হিসাব বেড়েছে।

দেশের বিভিন্ন ব্যাংকে কৃষক ও মুক্তিযোদ্ধাদের যেসব হিসাব রয়েছে, সেখানে সরকারের দেওয়া নানা সুবিধার টাকাও জমা হয়। সরকারের আর্থিক সহায়তার অর্থ জমা হওয়ার পরপরই তা অনেকে তুলে নেন। এ কারণে কয়েক মাস পরপর কৃষক ও মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যাংক হিসাবে জমা অর্থের কমবেশি হয়।

পোশাককর্মী, কৃষক ও মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যাংক হিসাবে জমা অর্থের পরিমাণ কমলেও শিক্ষার্থীদের ব্যাংক হিসাবে আমানত বা সঞ্চয় করা অর্থের পরিমাণ বেশ বেড়েছে। গত অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিক শেষে শিক্ষার্থীদের ব্যাংক হিসাবে জমা অর্থের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৪৯৮ কোটি টাকা। গত বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিক শেষে শিক্ষার্থীদের ব্যাংক হিসাবে জমা অর্থের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ২৯৩ কোটি টাকা। সেই হিসাবে তিন মাসের ব্যবধানে শিক্ষার্থীদের জমানো অর্থের পরিমাণ বেড়েছে ২০৫ কোটি টাকা। এ সময়ের ব্যবধানে শিক্ষার্থীদের ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় পৌনে দুই লাখ।

অর্থসূচক/এমএইচ

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.