টমেটো-বাঁধাকপি ও ফুলকপি রেখে কৃষকের রাস্তা অবরোধ

হাইওয়েতে ছড়িয়ে আছে সবজি। রাস্তা অবরোধ করা হয়েছে। সরকারি বাড়িতে লাগিয়ে দেয়া হচ্ছে সার। সারি সারি ট্রাক্টরও দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। ফ্রান্সের বড় শহরগুলির বাইরে কৃষক বিক্ষোভের এই ছবি দেখা গেল।

সস্তায় জিনিস আমদানি, চাষের খরচ সমানে বেড়ে যাওয়া ও সরকারি লাল ফিতের দাপটের প্রতিবাদে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন কৃষকরা। মার্সেই ও লিয়ঁর মধ্যে সংযোগকারী এ৭ হাইওয়েতে ছড়ানো ছিল টমেটো, বাঁধাকপি, ফুলকপি। কৃষকদের অভিযোগ এই সবজিগুলিই প্রতিবেশী দেশ থেকে কম দামে আমদানি করা হচ্ছে।

প্যারিসের কাছে সবচেয়ে ব্যস্ত সময়ে ট্রাক্টরগুলি সড়ক দিয়ে ধীরে ধীরে চলছিল। বিএফএম টিভি-কে এক কৃষক জানিয়েছেন, তারা ধীরে ধীরে প্যারিসের খুব কাছে এসে গেছেন।

দেশটির কৃষকদের শক্তিশালী সংগঠন এফএনএসইএ সরকারের হাতে তাদের একশটি দাবি তুলে দিয়েছে। তারা কৃষিক্ষেত্রের আরো সুরক্ষা চেয়েছে। তাদের দাবি, বিদেশ থেকে সস্তায় সবজি এনে তাদের অন্য়ায় প্রতিযোগিতার মুখে ফেলে দেয়া হচ্ছে। আর আমলাতন্ত্র তাদের উপর অনেক বেশি বোঝা চাপাচ্ছে।

ফ্রান্সে কৃষকদের এই ইউনিয়ন খুবই প্রভাবশালী। তারা দাবি করেছে, কৃষকদের ট্রাক্টর ও গাড়ির ক্ষেত্রে ডিজেলে ছাড় দিতে হবে। অবিলম্বে ইইউ-র দেয়া কৃষি ভর্তুকি তাদের হাতে তুলে দিতে হবে, বিমার অর্থ দেয়ার গ্যারান্টি দিতে হবে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ক্ষতি হলে তা পূরণ করতে হবে।

কৃষকদের এই বিক্ষোভ এখন দ্বিতীয় সপ্তাহে পড়েছে। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্ত থেকে তা শুরু হয়েছে। কিছুদিন আগেই জার্মানির কৃষকরাও বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। ফ্রান্সের এই কৃষক বিক্ষোভের মোকাবিলা করা এখন সরকারের সামনে বড় চ্য়ালেঞ্জ হয়ে দেখা দিয়েছে।

দেশটির নতুন প্রধানমন্ত্রীকে প্রেসিডেন্ট মাক্রোঁ দুই সপ্তাহ আগে নিয়োগ করেছেন। মাক্রোঁর আশা, প্রশাসনে নতুন প্রাণ সঞ্চার করবেন তিনি। বৃহস্পতিবার অর্থ, পরিবেশ ও কৃষিমন্ত্রীরা আলোচনায় বসেছিলেন। তারা শুক্রবারের মধ্যে কৃষকদের বিষয়ে একটা ঘোষণা করতে চান।

তিন মন্ত্রী কৃষকদের সমস্যা, বিশেষ করে ডিজেল নিয়ে এবং পশুপালন ও কৃষিজ জিনিসের ন্যায্য দাম নিয়ে কথা বলেছেন। ফ্রান্সের সরকার একটি কৃষি আইন আনতে চাইচিল। আপাতত সেটা বন্ধ রাখা হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, তারা আগে কিছু ব্যবস্থা নিতে চায়। তারপর ওই আইন করা হবে।

এদিকে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের নির্বাচন আসছে। এই অবস্থায় কৃষক বিক্ষোভ নিয়ে মাক্রোঁ চিন্তিত। কারণ, অতি দক্ষিণপন্থিরা এই বিক্ষোভকে হাতিয়ার করতে পারে। তাদের অভিয়োগ, সরকার ইইউ-র কৃষক-বিরোধী নিয়ম সমর্থন করছে। আর এই নিয়মগুলি সব দেশকে অনুসরণ করতেই হবে।

অতি-দক্ষিণপন্থি নেতা লে পেন বলেছেন, মাক্রোঁ কৃষকদের কাঁধে হাত রেখে কথা বলেন, তারপর ছুরি দিয়ে তাদের পিঠে মারেন। কৃষকরাই সরকারের সবচেয়ে বড় শত্রু।

কৃষক ইউনিয়নের এক নেত্রী জানিয়েছেন, মানুষকে ভালো খাবার খেতে হলে, উপযুক্ত দাম দিতে হবে। তার দাবি, চাষ করে কৃষকরা আর নিজেদের অন্নসংস্তান করতে পারছেন না। তাই তারা হতাশ। সূত্র: ডিডাব্লিউ, এএফপি, ডিপিএ, রয়টার্স

অর্থসূচক/এএইচআর

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.