নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাব পাস; গাজায় যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানানো হয়নি

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার বিরুদ্ধে ইসরাইলের চলমান গণহত্যার ব্যাপারে শেষ পর্যন্ত একটি প্রস্তাব পাস করেছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। প্রস্তাবে অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডে মানবিক ত্রাণ সরবরাহ বাড়ানোর কথা বলা হলেও এখনই ইসরাইলি গণহত্যা বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়নি।

শুক্রবার রাতে নিরাপত্তা পরিষদে পাস হওয়া প্রস্তাবে গাজায় ‘নিরাপদে ও বাধাহীনভাবে পর্যাপ্ত মানবিক সহায়তা প্রবেশের সুযোগ করে দিতে’ সংঘাতে জড়িত সব পক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

নিরাপত্তা পরিষদে আরব দেশগুলোর পক্ষ থেকে গত সপ্তাহে প্রথম প্রস্তাবটি উত্থাপন করেছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত। প্রথমে তাতে ‘অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধের’ আহ্বান জানানো হয়েছিল। তবে গত কয়েক দিনে আমেরিকার চাপের মুখে প্রস্তাবের ভাষায় বেশ কাটছাঁট করা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত শুক্রবার পাস হওয়া প্রস্তাবে ‘যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান’- কথাটি এড়িয়ে ‘লড়াই বন্ধে উপযুক্ত পরিস্থিতি তৈরি করার’ আহ্বান জানানো হয়েছে।

আমেরিকার কথা রাখতে গিয়ে অন্তত তিনবার প্রস্তাবটি উত্থাপন না করে তাতে কাটছাঁট করা হয়। কারণ, ওয়াশিংটন বলেছিল তাদের কথা না শুনলে আবার এতে ভেটো দেয়া হবে। শেষ পর্যন্ত শুক্রবার রাতের ভোটাভুটিতে প্রস্তাবটি ১৩-০ ভোটে পাস হয়; আমেরিকা ও রাশিয়া ভোটদানে বিরত থাকে। ভোট না দিলেও জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত লিন্ডা থমাস বলেছেন, ‘প্রস্তাবটি অগ্রগতির পথে একটি শক্ত পদক্ষেপ।’

এদিকে, প্রস্তাবের ভাষা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে এতে ভোটদানে বিরত থেকেছে রাশিয়া। মস্কো বলেছে, প্রস্তাবে যুদ্ধবিরতির আহ্বান না থাকায় তারা এতে ভোট দেয়নি। জাতিসংঘে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া প্রস্তাবের ভাষাকে ‘অতিরিক্ত নরম’ করার জন্য আমেরিকার তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, তারা তাদের প্রিয় কৌশল অবলম্বন করেছে। তিনি প্রস্তাবটিকে ‘নখদন্তহীন’ অভিহিত করে বলেন, এর মাধ্যমে গাজাবাসীর কোনো উপকার হবে না।

প্রস্তাবটির ভাষাগত আপত্তির কথা তুলেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতও। জাতিসংঘে দেশটির রাষ্ট্রদূত লানা জাকি নুসেইবেহ বলেছেন, ‘আমরা জানি প্রস্তাবের ভাষাটা একদমই যথাযথ নয়। মানবিক যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানানো থেকে আমরা কখনোই বিরত থাকব না।’

ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবটিকে ‘একটি অপর্যাপ্ত পদক্ষেপ’ উল্লেখ করে বলেছে, এতে গাজার ফিলিস্তিনি জনগণের উপর সন্ত্রাসী দখলদার বাহিনীর গণহত্যামূলক যুদ্ধ বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়নি যা দুঃখজনক।

গাজায় চলমান সংঘাত নিয়ে এর আগেও নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাব তোলা হয়েছে। তবে একটিও পাশ হয়নি। এর মধ্যে সবশেষ প্রস্তাবে উপত্যকাটিতে ‘অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির’ আহ্বান জানানো হয়েছিল। সেবাও প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছিল ১৩ সদস্য। তবে আমেরিকা ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করায় তা খারিজ হয়ে যায়। আর ভোট দানে বিরত ছিল ব্রিটেন। পার্সটুডে

অর্থসূচক/এএইচআর

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.