আদালতে বিচারককে লক্ষ্য করে জুতা নিক্ষেপ

চট্টগ্রামে একটি আদালতে বিচারককে লক্ষ্য করে পরপর দুটি জুতা ছুড়ে মারার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনায় জড়িত ব্যক্তি মনির খান মাইকেল (৩২) ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা একটি মামলার আসামি।

মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরের দিকে চট্টগ্রাম কোর্ট হিলস্থ চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ভবনের ৪র্থ তলায় অবস্থিত সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালতের এজলাসের ভেতর এ ঘটনা ঘটে। চট্টগ্রামের সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক মোহাম্মদ জহিরুল কবিরকে লক্ষ্য করে পরপর দুটি জুতা ছুড়ে মারেন মনির খান মাইকেল নামে এই আসামি।

রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘মঙ্গলবার দুপুরে বিচারক এজলাসে বসেন। এর একটু আগে পুলিশ তাকে কারাগার থেকে আদালতের কাস্টুডিতে নিয়ে আসেন। বিচারক এজলাসে বসার সঙ্গে সঙ্গে বিচারককে উদ্দেশ করে প্রথমে গালিগালাজ শুরু করেন। এর একটু পর বিচারককে লক্ষ্য করে পরপর দুটি জুতা ছুড়ে মারেন মনির খান মাইকেল। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘মাইকেলের বিরুদ্ধে করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় ২০২২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি তিনি জামিন পান। জামিন পেয়ে নির্দিষ্ট সময়ে আদালতে হাজির হননি। এ কারণে ২০২২ সালের ২ আগস্ট তার জামিন বাতিল করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। ২০২৩ সালের ৩ জুলাই পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।’

আদালত সূত্র জানায়, বিচারককে লক্ষ্য করে জুতা ছুড়ে মারা ওই ব্যক্তির নাম মনির খান মাইকেল। তিনি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলার আসামি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর থানাধীন গোকন এলাকার খাঁ বাড়ির গোলাপ খাঁর ছেলে।

মামলার এজাহার সূত্র জানায়, মনির খান মাইকেল ফেসবুক লাইভের দুটি ভিডিও শেয়ার করেন। ওই সব ভিডিওতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মহামান্য রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, তথ্যমন্ত্রী হাসান মাহমুদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য বদরুদ্দোজা মোহাম্মদ ফরহাদ হোসেন সংগ্রাম, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, কৃষক লীগ, যুবলীগ, স্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ বাংলাদেশ পুলিশকে উদ্দেশ করে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে মানহানিকর তথ্য প্রকাশ এবং হুমকি প্রদান করে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ২০২১ সালের ২২ জানুয়ারি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২০১৮ এর ২১(২)/ ২৫(২)/ ২৯(১)/ ৩২(২) ধারায় নিয়মিত মামলা করা হয়। নাসিরনগর থানার এসআই তপু সাহা বাদী হয়ে এ মামলা করেন। মামলা করার পরদিন ওই বছরের ২৩ জানুয়ারি পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। একই বছরের ২০ জুন তার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ।

অর্থসূচক/এএইচআর

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.