রূপপুর এনপিপি ট্রেনিং সেন্টারে বাংলাদেশী বিশেষজ্ঞদের প্রশিক্ষণ শুরু

নির্মীয়মান রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপদ পরিচালনার জন্য বাংলাদেশী বিশেষজ্ঞদের প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে রূপপুর প্রকল্প সাইটে অবস্থিত ট্রেনিং সেন্টারে। চলতি মাসের ১৬ তারিখ থেকে দুইটি গ্রুপ প্রশিক্ষণ গ্রহণ শুরু করেছে।

গত বুধবার (১৯ অক্টোবর) বাংলাদেশ সরকারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান, এবং রসাটম মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

ট্রেনিং সেন্টারটিতে ৫০টির অধিক গ্রুপকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। প্রশিক্ষনের মেয়াদ হবে আনুমানিক ৪মাস থেকে ১২মাস পর্যন্ত। প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামে বিভিন্ন বিষয়ের ওপর কোর্স অন্তর্ভুক্ত থাকবে। প্রতিটি কোর্সের স্থায়িত্ব হবে ২-৬ সপ্তাহ, যাতে থাকবে থিওরেটিক্যাল, প্র্যাকটিক্যাল এবং রূপপুর প্রকল্পে অন-জব ট্রেনিং।

বাংলাদেশী বিশেষজ্ঞরা রাশিয়ার রসাটম টেকনিক্যাল একাডেমী এবং রূপপুর এনপিপি ট্রেনিং সেন্টারে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবেন। জেনারেল কন্ট্রাক্ট অনুযায়ী রাশিয়া ১,১১৯জন বাংলাদেশীকে কয়েকটি ধাপে প্রশিক্ষণ প্রদান করবে। এছাড়াও রিজার্ভ স্টাফ হিসেবে প্রশিক্ষণ পাবেন আরো ৩০৫জন। রাশিয়ায় প্রশিক্ষণ লাভ করবেন ৮৫০জন, এবং বাকীরা রুশ প্রশিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে রূপপুর এনপিপি ট্রেনিং সেন্টারে। প্রশিক্ষণ পরিচালনা করবেন নভোভারোনেঝ এনপিপির বিশেষজ্ঞরা। উল্লেখ্য, নভোভারোনেঝ এনপিপি বাংলাদেশের রূপপুর এনপিপির রেফারেন্স প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত। সিম্যুলেটর ট্রেনিং এর জন্য রূপপুর প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটিকে ইতোমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। রসাটম টেকনিক্যাল একাডেমীর প্রশিক্ষকরা সিস্টেম ডিবাগিং কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

রূপপুর এনপিপি ট্রেনিং সেন্টারটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশী একজন বিশেষজ্ঞ মোঃ গোলাম শাহীনুর ইসলাম। তিনি ২০১৮-১৯ সেশনে রসাটম টেকনিক্যাল একাডেমীতে কৃতিত্বের সঙ্গে প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম সম্পন্ন করেন।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে দুটি পাওয়ার ইউনিট স্থাপিত হচ্ছে, এবং প্রতিটির উৎপাদন ক্ষমতা হবে ১,২০০ মেগাওয়াট। বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পরিচালনার জন্য ১,১০০ এর বেশি প্রশিক্ষিত ও দক্ষ বিশেষজ্ঞের প্রয়োজন হবে। রূপপুর এনপিপি ট্রেনিং সেন্টারটি এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করবে।

অর্থসূচক/ এইচএআই

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.