সর্বাধিক দরপতন, সর্বস্বান্তের পথে বিনিয়োগকারীরা

পুঁজিবাজারে গত কিছুদিন ধরে যে দরপতন চলছে, তাতে প্রায় সব কোম্পানি কম-বেশি শেয়ারের দর হারিয়েছে। এরই মধ্যে একটি কোম্পানির দর পতন সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে। গত পাঁচ দিন ধরে টানা দর পতন হচ্ছে কোম্পানিটির শেয়ারে। আর প্রতিদিনই প্রায় ৫ শতাংশ করে দর হারিয়েছে কোম্পানিটির শেয়ার।

টানা পতনে পাঁচ দিনে ২৫ শতাংশ দর হারিয়েছে কোম্পানিটি। কোম্পানিটির নাম-রংপুর ডেয়ারি অ্যান্ড ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেড, স্টক এক্সচেঞ্জে যার ট্রেডিং কোড-আরডি ফুড।

গত ৫ দিনে দেশের পুঁজিবাজারে সবচেয়ে বেশি দর হারিয়েছে আরডি ফুডের শেয়ার। আর তাতেই সর্বস্বান্তের পথে অসংখ্য বিনিয়োগকারী।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিসংখ্যান অনুসারে, গত ১৬ মে থেকে আরডি ফুডের শেয়ারের টানা দর পতন চলছে। টানা দর পতনের আগের দিন ডিএসইতে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ছিল ৬১ টাকা ২০ পয়সা। প্রথম দিন শেয়ারটির দর হারায় ৩ টাকা বা ৪ দশমিক ৯০ শতাংশ। পরের দিন শেয়ারটির দর ২ টাকা ৯০ পয়সা বা প্রায় ৫ শতাংশ কমে ৫৫ টাকা ৩০ পয়সায় দাঁড়ায়। তৃতীয় দিনে শেয়রটির দাম কমে আরও ২ টাকা ৭০ পয়সা। এটিও ছিল সার্কিটব্রেকারের নিম্ন সীমা।

গত বৃহস্পতিবার চতুর্থ দিনের মতো শেয়ারের দর হারায় কোম্পানিটি। এদিন কোম্পানিটির শেয়ারের দাম কমে ২ টাকা ৬০ পয়সা। আর আজ রোববার, পঞ্চমদিনে শেয়ারটির দাম আরও ৫ শতাংশ বা ২ টাকা ৫০ পয়সা কমে ৪৭ টাকা ৫০ পয়সায় নেমে আসে।


# পতনের আগে কারসাজি করে দাম বাড়ানোর অভিযোগ

# ১৪ মাসে দাম বেড়েছিল ৪১০ শতাংশ

# ইপিএসে অস্বাভাবিক উল্লম্ফন (১৮৪%)

# কারসাজির নেপথ্যে ব্রোকারহাউজের সাবেক এক কর্মকর্তা


বিশ্লেষকদের মতে, কোম্পানিটির শেয়ারের দামের অস্বাভাবিক উত্থানের মধ্যেই এমন বয়ানক পতনের কারণ নিহিত ছিল। অত্যন্ত দূর্বল মৌলভিত্তির এই কোম্পানির শেয়ারের দাম অনেকটা কারসাজি করে ৬০ টাকায় তোলা হয়েছিল। ডিএসইর পরিসংখ্যান অনুসারে, ২০২০ সালের ৩১ মে তারিখে আরডি ফুডের শেয়ারের দাম ছিল ১১ টাকা ৮০ পয়সা। ওই বছরের ৩০ নভেম্বর শেয়ারটির দাম ছিল ১২ টাকা ২০ পয়সা। এরপর থেকে নাটকীয়ভাবে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়তে থাকে। চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ৬২ টাকা ২০ পয়সায় উঠে। মাত্র ১৪ মাসে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম বাড়ে ৪১০ শতাংশ।

এত অল্প সময়ে মৌলিক কোনো কারণ ছাড়া একটি কোম্পানির শেয়ারের মূল্যে এতটা উত্থান মোটেও স্বাভাবিক নয় বলে মনে করেন বাজার বিশ্লেষকরা। কেবল কারসাজির মাধ্যমেই এটি সম্ভব বলে মনে করেন তারা।

বাজার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, এই কোম্পানির শেয়ার মূল্য কারসাজিতে যুক্ত ছিলেন ব্যাংকভিত্তিক একটি ব্রোাকারহাউজের সাবেক কর্মকর্তা। এর সাথে কোম্পানি কর্তৃপক্ষের যোগসাজশ ছিল বলে সন্দেহ। কারণ অন্যান্য কারসাজির ঘটনার সাথে আরডি ফুডের কারসাজিরও যথেষ্ট মিল আছে। যেসব ক্ষেত্রে কারসাজিতে কোম্পানির যোগসাজশ থাকে, তার বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কৃত্রিমভাবে মুনাফা বাড়িয়ে মূল্যকে প্রভাবিত করার চেষ্টা থাকে।

পরিসংখ্যান অনুসারে, ২০১৯ সালে আরডি ফুডের শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) ছিল ৪৬ পয়সা। পরের বছর এটি কমে হয় ৩১ পয়সা। কিন্তু ২০২১ সালে (যে বছরে শেয়ার-মূল্যের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি শুরু) কোম্পানিটির ইপিএস দেখানো হয় ৬৪ পয়সা, যা আগের বছরের ইপিএসের দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে কোম্পানিটির ইপিএস দেখানো হয়েছে, ১ টাকা ৩৭ পয়সা, যা আগের বছরের ইপিএসের চেয়ে ১১৪ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে তিন প্রান্তিকের ইপিএসকে বার্ষিকীকরণ (annualized) করলে তা দাঁড়ায় ১ টাকা ৮২ পয়সা, যা আগের বছরের ইপিএসের ৩ গুণ।

 

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
মন্তব্য
Loading...