ইনিংস ব্যবধানে হারল বাংলাদেশ

প্রথম ইনিংসে ব্যাটিং ভরাডুবির পর ক্রাইস্টচার্চে যেন হারের প্রহর গুনছিল বাংলাদেশ দল। হলোও তাই! দ্বিতীয় ইনিংসে লিটন দাসের সেঞ্চুরির পর মুমিনুল হকের দল থেমেছে ২৭৮ রানে। আর তাতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ইনিংস ও ১১৭ রানের বিশাল ব্যবধানে হেরেছে টাইগাররা। মাউন্ট মঙ্গানুইতে প্রথম টেস্ট আট উইকেটে জেতার কারণে দুই ম্যাচের এই সিরিজটি অবশ্য ১-১ ব্যবধানে ড্র হয়েছে।

টম লাথামের ২৫২ রানের ইনিংসে ভর করে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেটে ৫২১ রান করে ইনিংস ঘোষণা করে নিউজিল্যান্ড। জবাবে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ১২৬ রানে গুটিয়ে যায়। ফলো অনে পড়ে তৃতীয় দিন আবারও ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ।

ইনিংস ব্যবধানে হারের শঙ্কায় থাকলেও এদিন শুরু থেকেই দেখে শুনে খেলতে থাকেন বাংলাদেশের দুই ওপেনার সাদমান ইসলাম ও নাইম শেখ। যদিও ধৈর্য্যহারা হয়ে লেগ স্টাম্পের বাইরের বলে খোঁচা দিয়ে কাইল জেমিসনের শিকার হন সাদমান। তার ক্যাচ লাফিয়ে এক হাতে তালুবন্দি করেছেন কিউই উইকেটরক্ষক টম ব্লান্ডেল।

এরপর মাঠে নেমে শুরু থেকেই কিছুটা আক্রমণাত্মক খেলতে থাকেন নাজমুল হোসেন শান্ত। এর মধ্যে নেইল ওয়্যাগনারকে পুল করে একটি ছক্কাও মেরেছিলেন তিনি। যদিও মধ্যাহ্নভোজের বিরতির খানিক আগে সেই ওয়্যাগনারের বলেই ফাইন লেগে ট্রেন্ট বোল্টের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ২৯ রান করা শান্ত। ২ উইকেটে ৭৪ রান করে মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।

ম্যাচ বাঁচাতে উইকেটে মাটি কামড়ে পড়ে থাকা কিংবা বলের পর বল ডট খেলার বিকল্প ছিল না বাংলাদেশের। প্রথম ইনিংসে ব্যর্থ হলেও এদিন টেস্ট মেজাজেই ব্যাটিং করছিলেন নাইম। তবে মধ্যাহ্নভোজের বিরতি পর টিম সাউদির অফ স্টাম্পের বাইরের বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি। বা দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে দুর্দান্ত ক্যাচ নেন দ্বিতীয় স্লিপে দাঁড়িয়ে থাকা লাথাম। বাঁহাতি এই ওপেনার প্যাভিলিয়নের পথে হেঁটেছেন ২৪ রান করে।

নাইমের মতো একই ভূল করেছেন মুমিনুল হক। কয়েকবার ব্যাটের কানায় লাগলেও বেঁচে যান বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক। তবে এবার আর শেষ রক্ষা হয়নি তার। নেইল ওয়েগনারের অফ স্টাম্পের বাইরের বল খেলতে গিয়ে স্লিপে থাকা রস টেলরের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন ৩৭ রান মুমিনুল। প্রথম ইনিংসে হাফ সেঞ্চুরি করলেও দ্বিতীয় ইনিংসে একেবারে ব্যর্থ ইয়াসির আলী রাব্বি।

ওয়েগনারের বাউন্সার বল খেলতে গিয়ে লাথামের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন ২ রান করা ডানহাতি এই ব্যাটার। বাংলাদেশের ব্যাটারদের ব্যর্থতার দিনে আশার আলো দেখান লিটন। বোল্টকে চার মেরে ৬৯ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেছেন ডানহাতি এই ব্যাটার। সেই ওভারে আরও তিনটি চার মারেন লিটন। এদিন ডানহাতি এই ব্যাটারকে দারুণভাবে সঙ্গে দিচ্ছিলেন নুরুল হাসান।

প্রথম ইনিংসের মতো এদিনও সোহান আউট হয়েছেন বড় ইনিংস খেলতে না পারার আক্ষেপ নিয়ে। ড্যারিল মিচেলের লেংথ বলে তুলে মারতে গিয়ে মিড অফে ওয়্যাগনারের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন সোহান। তাতে অপ্রয়োজনীয় শট খেলে ৩৬ রানে আউট হয়েছেন ডানহাতি এই ব্যাটার। সোহানের বিদায়ে ভাঙে লিটনের সঙ্গে তার ১০১ রানের জুটি। দ্বিতীয় টেস্টে যা বাংলাদেশের প্রথম শতরানের জুটি।

এরপর উইকেটে থিতু হওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। কিন্তু ৩০ বল খেলা মিরাজকে প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠান জেমিসন। ৩ রান করে লাথামের কাছে দ্বিতীয় স্লিপে ধরা পড়েন মিরাজ।

দ্রুত উইকেট পড়ছে দেখে একটু আগ্রাসী ভঙ্গিমায় খেলতে শুরু করেন লিটন। জেমিসনের ওভারে তুলে নেন টেস্ট ক্যারিয়ারে নিজের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। সেঞ্চুরি করার কিছুক্ষণ পর জেমিসনের বলেই ফিরে যান লিটন। লেগ বিফোর উইকেটের শিকার হওয়ার আগে তিনি ১৪টি চার ও একটি ছক্কায় ১১৪ বলে ১০২ রান করেন।

শেষ বিকেলে বাংলাদেশের পরাজয় ছিল শুধুই আনুষ্ঠানিকতা। লিটনের পর শরিফুল ইসলামও ফিরে গেলে এবাদত হোসেন ও তাসকিন আহমেদদের বোলিং করতে আসেন ক্যারিয়ারের শেষ টেস্ট খেলতে নামা রস টেলর। ডানহাতি অফ স্পিনে চার রান করা এবাদতকে লাথামের ক্যাচ বানিয়ে বাংলাদেশের হার নিশ্চিত ও নিজের বিদায়কে স্মরণীয় করে রাখেন তিনি।

 

অর্থসূচক/এএইচআর

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
মন্তব্য
Loading...