পাকিস্তানকে ১২৮ রানের লক্ষ্য দিল টাইগাররা

ইনিংসের একদম শেষ ওভারে ছক্কা হাঁকালেন তাসকিন আহমেদ। বলটা আঁচড়ে পড়ল গ্যালারিতে। তাতেই যেন প্রমাণ মিলল উইকেটটটার। বাংলাদেশের টপ-অর্ডার ব্যাটসম্যানদের যেন তাসকিন দেখালেন, এভাবেও খেলা যায়।

শুরুটা হয়েছিল হতাশায় মোড়ানো। প্রথম বাউন্ডারির জন্যই অপেক্ষা করতে হয়েছিল পাওয়ার প্লের শেষ ওভার পর্যন্ত। শেষ অবধি অবশ্য বাংলাদেশ পেয়েছে লড়াই করার মতো সংগ্রহ। পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ১২৮ রানের লক্ষ্য দিয়েছে টাইগাররা।

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ধরণটাই যেন ভুলে গেছে বাংলাদেশ দল। বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভ পর্বে পাঁচ ম্যাচের একটিতেও জিততে পারেনি টাইগাররা। এবার ঘরে ফিরে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দলের সামনে। কিন্তু ওই যে, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের আসল কৌশলটা রপ্ত করতে পারছে না লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

নিজেদের ফিরে পাওয়ার লক্ষ্যে ঘরের মাঠে পাকিস্তানের মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ দল। ২ ম্যাচ টেস্ট সিরিজের আগে ৩ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। এই সিরিজের প্রথম ম্যাচে আজ (শুক্রবার) মাঠে নেমেছে দুদল। এই ম্যাচ দিয়ে ৬১৭ দিন পর দর্শক ফিরেছে স্টেডিয়ামে। প্রত্যাবর্তনের মিশনে এর থেকে বড় টোটকা আর কিই-বা হতে পারে! তবে বরাবরের মতো ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতা ফুটে উঠল এ ম্যাচেও।

পাকিস্তানের বিধ্বংসী পেসার শাহিন শাহ আফ্রিদির অনুপস্থিতিতেও বাংলাদেশের ব্যাটিং হতশ্রী। ইনিংস থামে ১২৭ রানে। জয়ের জন্য পাকিস্তানের প্রয়োজন ১২৮ রান। বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৩৬ রানের ইনিংস খেলেন আফিফ হোসেন। শেখ মেহেদীর ব্যাট থেকে আসে ৩০ রান। নুরুল হাসান সোহান খেলেন ২৮ রানের ইনিংস।

ম্যাচের শুরুতে টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় স্বাগতিকরা। তবে উদ্বোধনী জুটি টিকেনি ৭ বলের বেশি। পেসার হাসান আলীর বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে নাঈম শেখ ফেরেন ১ রান করে। বেশ চমক জাগিয়ে টি-টোয়েন্টি অভিষেক হওয়া সাইফ হাসানও সতীর্থকে অনুসরণ করে একই পথ ধরেন সমান ১ রানেই। কখনোই টি-টোয়েন্টির উপযুক্ত ব্যাটসম্যান বলে বিবেচিত না হওয়া এই ডানহাতি অভিষেকেও নড়বড়ে। মোহাম্মদ ওয়াসিমের অফ স্টাম্পের বেশ বাইরের কিছুটা সুইং করা বলে ক্যাচ দেন স্লিপে। ১০ রানেই নেই ২ উইকেট।

দীর্ঘদিন পর টি-টোয়েন্টি দলে ফেরা নাজমুল হোসেন শান্ত সিরিজ শুরুর আগে কড়া বার্তায় জানিয়েছিলেন, শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করবেন তিনি। তবে বারবার জায়গা হারানো শান্ত এই নিয়ে তৃতীয় দফা টি-টোয়েন্টি দলে ডাক পেয়ে আজ থেমেছেন মাত্র ৭ রানে, খেলেন ১৪ বল। ওয়াসিমের দ্বিতীয় শিকার হন শর্ট বলে উড়িয়ে মারতে গিয়ে।

সম্প্রতি ব্যাটিং দৈন্যতার বৃত্তে আটকে যাওয়া বাংলাদেশ দল এ ম্যাচে পাওয়ার-প্লের ৬ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে তোলে মাত্র ২৫ রান। আশা দেখিয়ে আরেক দফা হতাশ করলেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। এ দফায় অবশ্য নিজেকে দুর্ভাগা দাবি করতে পারেন তিনি। মোহাম্মদ নেওয়াজের হাল্কা টার্ন করা বল বেরিয়ে যাওয়ার আগে স্টাম্প ছুয়ে যায়। মাহমুদউল্লাহ ফেরেন ১১ বলে ৬ রানে। পরে ৪০ রানে ৪ উইকেট হারানো স্বাগতিক বাংলাদেশকে টেনে নেন আফিফ হোসেন ধ্রুব।

সতীর্থরা যেখানে টেস্ট মেজাজে ব্যাটিং করে সাজ ঘরের পথে, সেখানে কিছুটা আগ্রাসী ভূমিকায় আফিফ। শুরু থেকে বলের মেধা বিচার করে নিজের শক্তির জায়গা কাজে লাগান এই বাঁহাতি। ১১তম ওভারে মোহাম্মদ নেওয়াজকে হাঁকান টানা ২ ছক্কা। যদিও ইনিংসটাকে বেশি বড় করতে পারেননি তিনি। পরে ফেরেন ইনিংস সর্বোচ্চ ৩৬ রান করে। যেখানে ওই ২টি ছয়ের সঙ্গে ২টি চারের মার আসে তার ব্যাট থেকে।

জুটি গড়তে ব্যর্থ বাংলাদেশকে খেলায় ফেরানোর চেষ্টা করেন নুরুল হাসান সোহান ও শেখ মেহেদী হাসান। তাদের ষষ্ঠ উইকেট জুটি থেকে আসে ৩৫ রান। সোহান রানের গতি বাড়াতে গিয়ে নিজের উইকেট বিসর্জন দেন। হাসান আলীর দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন ২২ বলে ২৮ রান করে। বাউন্ডারির দেখা না পেলেও দুটি ওভার বাউন্ডারি আসে তার ব্যাট থেকে। বাংলাদেশ দল প্রথম ৫০ রানে দেখা পায় ৬৩ বলে। আফিফ-সোহানের ব্যাটে পরের ৫০ রান আসে ৪৪ বলে।

শেষদিকে শেখ মেহেদী হাসানের ২০ বলে অপরাজিত ৩০ রানের কল্যাণে নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৭ উইকেট হারিয়ে ১২৭ রানের পুঁজি পেয়েছে বাংলাদেশ দল। জয়ের জন্য পাকিস্তানের প্রয়োজন ১২৮ রান। সফরকারীদের হয়ে পেসার হাসান আলী সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেন।