সংবাদ সম্মেলনে নাকাল আলিফ গ্রুপের এমডি

সোমবার (০১ নভেম্বর) রাজধানীর গুলশান ক্লাবে আয়োজিত ‘বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইলের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যত পরিকল্পনা’ শীর্ষক একটি ব্যানার নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে অতীতের বিভিন্ন রকমের নেতিবাচক কার্যকলাপ বিষয়ক নানা প্রশ্নে নাকাল হয়েছেন আলিফ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আজিমুল ইসলাম।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইলের উৎপাদন আবার শুরু করার পরিকল্পনা নিয়ে এগুচ্ছেন তারা।

তবে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকরা সিঅ্যান্ড টেক্সটাইল অধিগ্রহণের চেয়ে অতীতে বিভিন্ন কোম্পানি কেনার ঘোষণা দিয়ে পিছিয়ে আসা এবং শেয়ার মূল্য কারসাজির অভিযোগ সংক্রান্ত বিষয়ে প্রশ্নবানে জর্জরিত করে তুলেন আলিফ গ্রুপের এমডিকে।

এর আগে ৫ বছর ধরে বন্ধ পরে থাকা পূঁজিবাজারের বস্ত্র খাতের কোম্পানি সি অ্যান্ড এ টেক্সটাইলের মালিকানা অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয় আলিফ গ্রুপ। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইলের উৎপাদন পুনোরায় শুরু করার জন্য আলিফ গ্রুপের পরিকল্পনা এবং পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে সাংবাদিকদের এ সকল প্রশ্নের সম্মুখিন হন আলিফ গ্রুপের এমডি।

“অতীতে পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত এমন আরও কিছু দুর্বল ও মন্দ কোম্পানি অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল আলিফ গ্রুপ। এই খবরে বাজারে কোম্পানিগুলোর  কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম অনেক বেড়ে যাবার পর আলিফ গ্রুপ হঠ করে জানিয়েছে, তারা ওই কোম্পানি কিনবে না। এই খবরে শেয়ারের দাম ব্যাপকভাবে কমে গেছে। তাতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। অনেকের মতে আপনারা শেয়ারের মূল্যকে প্রভাবিত করতে এ ধরনের কারসাজি করেছিলেন, এবারও কি এমন কিছুর সম্ভাবনা আছে?”

সাংবাদিকদের করা এমন প্রশ্নের জবাবে আলিফ গ্রুপের এমডি বলেন,

“অন্যান্য কোম্পানিগুলো যেটা আমরা কিনে চেয়েছি প্রতিটা কোম্পানির অগ্রগতির চেষ্টা আমরা প্রতিনিয়ত করেই যাচ্ছি। কিন্তু এর মাঝে কিছু কোম্পানির বড় ধরনের কিছু সমস্যা থাকে যে কারনে আমরা সফল্ভাবে কোম্পানিগুলোকে আমাদের আওতায় নিয়ে আসতে পারিনা। আর আপনারা যেটা বলছেন যে প্রতিবার কোম্পানি পুরোপুরি অধিগ্রহনের আগেই সংবাদ প্রকাশের কথাটা, এক্ষেত্রে যদি পাবলিক রিলেটেড কোম্পানিগুলোর যেকোন কোম্পানির সাথে যেকোন ধরণের চুক্তি করার সাথে সাথে সেই বিষয়টিকে পিএসআই বা প্রাইজ সেনসিটিভ ইনফরমেশন হিসেবে গণমাধ্যমে প্রকাশ করতে আইনত বাধ্য থাকতে হয়। আর এখানে চুক্তির বিষয়টা যেভাবে হয় যে আমরা একটা কোম্পানি অধিগ্রহণের পূর্বেই আমরা কোম্পানির সাথে আলাপ-আলোচনা করি এবং তারা আমাদেরকে তাফের কোম্পানির ব্যাপারে একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেন, সেই বিবরণের উপর ভিত্তি করে আমরা কোম্পানিটি অধিগ্রহণের চুক্তি সাক্ষর করে থাকি। এরপর আমরা কোম্পানিটির খুটিনাটি তথ্য সংগ্রহ করে থাকি। সেই স্কল তথ্য যাচাইয়ের সময় আমরা যখন দেখতে পাই কোম্পানিটির অপ্রকাশিত কোন দায় আছে কিংবা লাইসেন্স এগ্রিমেন্ট নেই বা এমন কোন বড় ধরণের সমস্যা আছে তখন আমরা সেই চুক্তি বাতিলের সিধান্ত নিয়ে থাকি।‘

আপনারা যখন এই সংবাদ সম্মেলনটির আয়োজন করেছেন তখনো পুঁজিবাজারের বিনিয়োগ চলছে, আমরা সাধারণত দেখি যে পুঁজিবাজারের যে সকল বোর্ড মিটিংগুলো আয়োজন করা হয় সেগুলো লেন-দেন শেষ হবার পর আয়োজন করা হয়, আপনারা সিএন্ডএ টেক্সটাইল এর ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে যে তথ্য গুলো দিচ্ছেন তা কিন্তু পিএসআই বা মূল্য সংবেদনশীল তথ্যও বটে, আপ্নারা কি এই আয়োজন টা লেনদেন চলাকালীন সময়ে করছেন কি শেয়ারের দামকে প্রভাবিত করার জন্য?

‘দেখেন লেনদেন চলছে বলে আমাদের অনুষ্ঠানের কোন প্রভাব শেয়ারের দামে পরা উচিত না কারন আমরা কোন ব্রোকারেজ হাউজ কিংবা মার্চেন্ট ব্যাংক তাদেরকে কিন্তু আমরা এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রন করিনি। আমরা কেবলই সাংবাদিক এবং আমাদের প্রিন্ট এবং ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার লোকজনদের কে বলেছি কারণ আমি দেখেছি যে, গনমাধ্যমের সাথে জড়িত অনেকের কাছেই কৌতুহলের বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে যে আমরা (আলিফ গ্রুপ) আসলে কি করতে চাচ্ছি। এবং মাঝে মাঝে আমরা দেখছি যে আমাদের বিষয়ে ভুল কিছু রিপ্রেজেন্ট করা হচ্ছে। আমরা মনে করলাম যে সেটা নিয়া সরাসরি আপনাদের সাথে কথা বলা উচিত আর দুপুর ২টা ৩০ এর পর যদি করি তাহলে আমরা যে একসাথে মধ্যাহ্ণ ভোজের প্ল্যান টা করেছি তা হয়তো সফলভাবে করতে পারতাম না। সেই পরিপ্রেক্ষিতেই আমাদের এই আয়োজনের জন্য এই সময় বাছাই করা হয়েছে, এর দারা শেয়ারের মূল্যকে প্রভাবিত করার কোন পরিকল্পনা নেই।‘

আপনারা পুর্ববর্তী সময়ে বিভিন্ন কোম্পানি কে অধিগ্রহন করার কথা বলেছেন যেমন লিগ্যাসি ফুটওয়্যার এবং বিডি অটো কার্স এই দুটি কোম্পানিরও আপনারা উল্লেখযোগ্য শেয়ার ক্রয় করেছিলেন যা সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ কমিশনের মতে তাদের নিয়মের বাহিরে গিয়ে ইস্যু করেছিলেন এবং সেটার জন্য আপনারা জরিমানার সম্মুখিন হয়েছিলেন, এখন প্রশ্ন হচ্ছে যে ওই শেয়ারগুলো কি শুধুই শেয়ার ক্রয়ের উদ্দেশ্যেই কিনেছিলেন নাকি ওই কোম্পানিগুলোকেও আপনাদের অধিগ্রহণের ইচ্ছে ছিলো বা শেয়ারের দামকে প্রভাবিত করতে চেয়েছিলেন?

‘ আমরা লেগ্যাসি ফুটওয়্যারকে আমাদের অধিভুক্ত করতে চেয়েছি এটা সত্য। একারণেই আমি আমার বাবা আমার মা, আমার ওয়াইফ, এবং আমার নিজস্ব নামে কোম্পানিগুলোর শেয়ার কিনেছি। শেয়ার মেন্যুপুলেট করতে গেলে কিন্তু কেউ নিজের নামে শেয়ার ক্রয় করেনা। শেয়ার কেনার জন্য এমন অনেক লোক আছে যাদের নামে শেয়ার ক্রয় করা যেত শেয়ার মেন্যপুলেট করার জন্যে।এবং সিকিউরিটিজ অ্যান্ড একচেঞ্জ কমিশন যে যায়গায় আমাদেরকে লিগ্যাসি ফুটওয়্যার কে নিয়ে প্রশ্ন করেছে সেটা হচ্ছে সাবসক্রিপশন সেয়ার এক্যুজেশন অ্যাক্ট এর আন্ডারে। এর মানে হচ্ছে কোন ব্যাক্তি বা কোন কোম্পানি যদি এককভাবে ১০ শতাংশের বেশি শেয়ার ক্রয় করে থাকে তাহলে বিএসইসি নির্ধারিত একটি বিশেষ প্রসেস ডিসক্লোজ করে যেতে হয়। কিন্তু এখানে আমরা কেঊ ই এককভাবে ১০ শতাংশের বেশি শেয়ার হোল্ড করিনি। আমাদেরকে বলা হয়েছিলো আমরা ৪ জন এবং ২ টি কোম্পানি মিলিয়ে আমরা বা আজিমুল ইসলাম অ্যান্ড গং ১০ শতাংশের বেশি শেয়ার ক্রয় করেছি। এ বিষইয়ে আমরা আসলে অবগত ছিলাম না যে এভাবে একত্রিত হয়ে আজিমুল ইসলাম অ্যান্ড গং হয়ে যাবে। এটা নিয়ে আমরা বিএসইসি তে আপিল করেছি, এবং আমরা আমাদের ব্যাখ্যা দিয়েছি। এবং দ্বিতীয়ত বিডি অটোকার্স এর ব্যাপারে আমাদের কে কোন জরিমানা করা হয়নি। আমরা শুধু এখানে শেয়ার কিনেছি,  সেটার জন্য রেগুলেটর কথা বলেছেন এবং এর বিরুদ্ধে আমাদের কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার ইচ্ছে ছিলো না কারণ এই কোম্পানির ব্যাপারে আমরা বিশেষ কিছু জানি না।‘