রেলখাতে রাশিয়াকে বিনিয়োগের আহ্বান মন্ত্রীর

রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার ভি মানটিটসকি। সাক্ষাৎকালে রেলমন্ত্রী বাংলাদেশে রেলখাতে রাশিয়াকে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

সোমবার (১ নভেম্বর) দুপুরে রেলভবনে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তারা। বৈঠককালে রেলমন্ত্রী স্বাধীনতার সময় রাশিয়ার ভূমিকা উল্লেখ করেন এবং স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানের কথাও তুলে ধরেন।

রেলমন্ত্রী বলেন, আমাদের রেলপথ যমুনা নদী দ্বারা দুই ভাগে বিভক্ত। পশ্চিমে ব্রডগেজ আর পূর্বে মিটারগেজ। আমরা পর্যায়ক্রমে সকল লাইনকে ব্রডগেজে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছি। এছাড়া আমাদের বেশিরভাগই সিঙ্গেল লাইন। আমরা পর্যায়ক্রমে সকল সিঙ্গেল লাইনকে ডাবল লাইনে উন্নীত করারও উদ্যোগ নিয়েছি।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, জনগণের চাহিদার কথা বিবেচনা করে ২০১১ সালে প্রধানমন্ত্রী আলাদা মন্ত্রণালয় গঠন করেছেন। তখন থেকেই সরকার রেলখাতে বিনিয়োগ শুরু করে।

রেলমন্ত্রী এ সময় রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতকে বলেন, রেলখাতে আমরা বিদেশি বিনিয়োগ খুঁজছি। বর্তমানে রেলওয়েতে অনেক প্রকল্প চলমান আছে এবং আগামীতে আরও অনেক প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, রেলখাতের উন্নয়নে মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে আমরা বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিচ্ছি।

নূরুল ইসলাম সুজন এ সময় বাংলাদেশের রেল খাতে চলমান উন্নয়ন প্রকল্পে রাশিয়াকে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। মন্ত্রী বলেন, রেলওয়েতে আমরা নতুন কোচ, ইঞ্জিন সংগ্রহ করছি। নতুন নতুন লাইন নির্মাণ করা হচ্ছে। ব্রিজ নির্মাণ ও সংস্কার করা হচ্ছে। সিগনালিং ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথভাবে ট্রেনিং ইনস্টিটিউট স্থাপনসহ এ সকল ক্ষেত্রে রাশিয়া বিনিয়োগ করতে পারে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এরপর রাষ্ট্রদূত রেলমন্ত্রীকে রাশিয়া ভ্রমণের আমন্ত্রণ জানান। মন্ত্রী আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং আগামী মাসে রাশিয়া ভ্রমণে ইচ্ছা পোষণ করেন। সেসময় সরেজমিনে রাশিয়ার রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা, প্রযুক্তিসহ সেখানকার রেলওয়ে কোচ ও ইঞ্জিন তৈরির কারখানা দেখার ইচ্ছার কথা জানান মন্ত্রী।

সাক্ষাৎকালে আরও উপস্থিত ছিলেন- রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব সেলিম রেজা, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক ধীরেন্দ্রনাথ মজুমদার, রাশিয়া দূতাবাসের তৃতীয় সচিব অ্যান্টন ভেরেসচাগিন প্রমুখ।

অর্থসূচক/এমএস

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •   
  •