কোহলিদের ব্যর্থতার দিনে হামিদ-বার্নসের ব্যাটে ইংল্যান্ডের লিড

0
152

হেডিংলির হালকা ঘাসের ছোঁয়া উইকেটে নিজেদের পুরোদস্তুর মেলে ধরলেন জেমস অ্যান্ডারসন-ক্রেইগ ওভারটন-অলিভার রবিনসন কিংবা তরুণ স্যাম কারান। ইংলিশদের এই চার পেসারের দাপুটে বোলিং মাত্র ৭৮ রানেই অল আউট হয় ভারত। সফরকারীদের গুড়িয়ে দেয়ার আসল কাজটা করেন অ্যান্ডাসন। নিজের প্রথম স্পেলে ৮ ওভারে মাত্র ৬ রান দিয়ে ৩ উইকেট তুলে নেন অভিজ্ঞ এই পেসার। শেষ পর্যন্ত ধকল সামলে উঠতে পারেনি ভারত।

কোহলি-রোহিত শর্মাদের ব্যর্থতার দিনে ব্যাট হাতে আলো ছড়িয়েছেন ইংল্যান্ডের দুই ওপেনার ররি বার্নস ও হাসিব হামিদ। প্রথম দিন শেষে বিনা উইকেটে তাঁদের সংগ্রহ ১২০ রান। তাতে প্রথম ইনিংসে ভারতের চেয়ে ৪২ রানে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় দিন সকালে ব্যাটিংয়ে নামবে ইংল্যান্ড। স্বাগতিকদের হয়ে হামিদ ৬০ ও বার্নস অপরাজিত ৫২ রানে।

প্রথম ইনিংসে ভারতের করা ৭৮ রানের জবাব দিতে নেমে দারুণ শুরু করেন দুই ইংলিশ ওপেনার বার্নস ও হামিদ। ব্যর্থতার বৃত্তে ডুবে থাকা উদ্বোধনী জুটির নতুন শুরু এনে দেন তাঁরা দুজন। সর্বশেষ পাঁচ বছরে মাত্র ছয়বার শতরানের জুটি গড়েছেন ইংল্যান্ডের ওপেনাররা।

যার দুটিতেই রয়েছে হামিদের নাম। যেখানে তিনি ওপেনার হিসেবে খেলেছেন মোটে ৬ ইনিংস। ২০১৬ সালে অভিষেক হলেও প্রায় বছর পাঁচেক পর লর্ডস টেস্ট দিয়ে দলে ফিরেছিলেন হামিদ। তবে নিজের প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে নিজেকে মেলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছিলেন ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান।

লর্ডসে ব্যর্থ হলেও হেডিংলিতে হাফ সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন। ক্যারিয়ারের তৃতীয় হাফ সেঞ্চুরি পেতে হামিদের খেলতে হয়েছে ১১০ বল। এদিকে ক্যারিয়ারের দশম হাফ সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন বার্নস। ১২৩ বলে হাফ সেঞ্চুরি স্পর্শ করেন বাঁহাতি এই ওপেনার। তাঁদের দুজনের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে প্রথম দিনে বিনা উইকেটে ১২০ সংগ্রহ করেছে ইংল্যান্ড।

এর আগে হেডিংলিতে টসে জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো করতে পারেনি ভারত। ইনিংসের চতুর্থ বলে অ্যান্ডারসনের ইন সুইঙ্গার বল বুঝতে ভুল করেছিলেন লোকেশ রাহুল। তাতে এজ হয়ে উইকেটরক্ষক জস বাটলারের গ্লাভসে ক্যাচ দিয়ে শূন্য রানেই সাজঘরে ফেরেন লর্ডসে সেঞ্চুরি করা এই ব্যাটসম্যান।

তিনে নেমে থিতু হতে পারেননি চেতেশ্বর পূজারাও। গুড লেন্থে ফেলে দারুণ এক ইন সুইঙ্গারে পূজারাকে পরাস্ত করেন অ্যান্ডারসন। ডানহাতি এই ব্যাটসম্যানের ক্যাচও লুফে নেন বাটলার। কোহলির ব্যর্থতার পাল্লা ভারি হয়েছে হেডিংলিতেও। অ্যান্ডারসনের বলে কভার ড্রাইভ করতে গিয়ে আউট হয়েছেন তিনি।

কভার ড্রাইভের জন্য নিজের শরীর ঠিক জায়গায় নিয়ে গেলেও এজ হয়ে ক্যাচ চলে যায় বাটলারের গ্লাভসে। তাতে ১৭ বলে মাত্র ৭ রান করে সাজঘরে ফিরতে হয় ৫০ ইনিংস ধরে সেঞ্চুরি না পাওয়া ভারতের অধিনায়ককে। ২১ রানে ৩ উইকেট হারানো ভারতকে খানিকটা টেনে তোলার চেষ্টা করেন আজিঙ্কা রাহানে। যদিও তাঁদের সেই চেষ্টায় সফল হতে দেননি রবিনসন। তাঁর পঞ্চম স্টাম্পের বল খেলতে গিয়ে বাটলারের হাতে ক্যাচ আউট হন রাহানে। ৫৪ বলে ১৮ রান করে রাহানে ফিরলে ভাঙে রোহিতের সঙ্গে তাঁর ৩৫ রানের জুটি। ঋষভ পান্ত সাজঘরে ফিরেছেন থিতু হওয়ার আগেই।

রবিসনের বলে বাটলারের হাতে ক্যাচ দিয়ে মাত্র ২ রান করে সাজঘরে ফেরেন এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান। পান্তের ক্যাচটি ছিল এই ইনিংসে বাটলারের পঞ্চম। এক ইনিংসে আউট হওয়া প্রথম পাঁচ ব্যাটসম্যানের ক্যাচ নেয়ার রেকর্ডে বাটলার ভাগ বসিয়েছেন ব্র্যাড হ্যাডিনের সঙ্গে। এর আগে ২০১৪ সালে ভারতের বিপক্ষে এমন কীর্তি গড়েছিলেন সাবেক এই অজি উইকেটরক্ষক।

ভারতের ব্যাটসম্যানরা আসা যাওয়ার মিছিলে থাকলেও আশার আলো হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন রোহিত শর্মা। তবে ওভারটনের আউট সাইড অফ স্টাম্পের বাইরের বাউন্সারে পুল করতে গিয়ে আউট হয়েছেন ডানহাতি এই ওপেনার। ১৯ রান করে রোহিত ফেরার পর আর কেউ সেভাবে দাঁড়াতেই পারেননি।

শেষ দিকে রবীন্দ্র জাদেজা ও জসপ্রিত বুমরাহকে পরপর দুই বলে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের আশা জাগিয়েছিলেন কারান। তবে সিরাজ কারানের বল ভালোভাবে সামাল দেয়ায় হ্যাটট্রিক করা হয়নি বাঁহাতি এই পেসারের। এরপর ইশান্ত শর্মা দ্রুত রান তোলার চেষ্টা করলেও সেটা খুব বেশি ফলপ্রসূ হয়নি। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে মোহাম্মদ সিরাজ আউট হলে ভারত অল আউট হয় মাত্র ৭৮ রানে। যা ইংল্যান্ডের মাটিতে তাঁদের তৃতীয় সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ। এর আগে ৪২ ও ৫৮ রানে অল আউট হয়েছিল ভারত। সফরকারীদের হয়ে সর্বোচ্চ ১৯ রান এসেছে রোহিতের ব্যাট থেকে। ইংল্যান্ডের হয়ে ওভারটন ও অ্যান্ডারসন তিনটি করে উইকেট নিয়েছেন। এ ছাড়া কারান ও রবিনসন নিয়েছেন দুটি করে উইকেট।

অর্থসূচক/এএইচআর