এনএসইউতে রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে সার্টিফিকেট কোর্স উদ্বোধন

0
84

“নরওয়ে রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে সবসময় বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াবে”, নরওয়ের রাষ্ট্রদূত এসপেন রিকটার-সোভেনসেন রোহিঙ্গা বিষয়ে সার্টিফিকেট কোর্সের উদ্বোধনকালে গত শনিবার এ কথা বলেন। কোর্সটি যৌথভাবে আয়োজন করেছে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (এনএসইউ) অবস্থিত সাউথ এশিয়ান ইন্সিটিউট অব পলিসি অ্যান্ড গভর্নেন্স (এসআইপিজি) এর সেন্টার ফর পিস স্টাডিজ (সিপিএস) এবং অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিউম্যান রাইট্‌স প্র্যাকটিস প্রোগ্রাম। এটি ১২ সপ্তাহের অনলাইন কোর্স হলেও কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন এর সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর আতিকুল ইসলাম, ঢাকায় নিযুক্ত রয়্যাল নরওয়েজিয়ান দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত এসপেন রিকটার-সোভেনডেন, অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন প্রফেসর জন পল জোন্স, এবং এসআইপিজি ও সিপিএস-এর পরিচালক প্রফেসর তৌফিক এম. হক। এছাড়াও রাষ্ট্রদূত সুফিউর রহমান অস্ট্রেলিয়া থেকে এবং প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত ও বর্তমানে এনএসইউর প্রফেসোরিয়াল ফেলো শহিদুল হক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

প্রফেসর তৌফিক এম. হক তার উদ্বোধনী বক্তব্যে বলেন যে এই সার্টিফিকেট কোর্সের একটি মূল লক্ষ্য হল রোহিঙ্গা সংকট সম্পর্কিত অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তামূলক বিষয় সহ জাতীয়, দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক এবং বৈশ্বিক রাজনীতি এবং নীতিসমূহের গতিশীলতা নিয়ে আলোচনা করা।

উদ্বোধনী ভাষণে ঢাকায় নিযুক্ত রয়েল নরওয়েজিয়ান দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত এসপেন রিকটার-সোভেনসেন আলোচনা করেন যে কিভাবে রোহিঙ্গা জনগণের সহায়তা সংক্রান্ত সমস্যাগুলি বাংলাদেশ এবং মানবাধিকার সংস্থাদের জন্য আরও জটিল হয়ে উঠছে। তিনি এই কোর্সে অংশগ্রহণকারীদের রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে নতুন উপায় বের করতে উত্সাহিত করেন।

অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন অধ্যাপক জন পল জোন্স উল্লেখ করেছেন যে, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে অংশীদারিত্ব করা সম্মানের বিষয়। তিনি আশাবাদী যে এই কোর্সের বহুমুখী বিষয়ের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী এবং পরিচালনাকারী ব্যক্তিরা উভয়ই রোহিঙ্গা সঙ্কট সম্পর্কে আরও শিখতে এবং সমাধানগুলি সন্ধান করতে পারবে। তিনি বাস্তুচ্যুত মানুষের সকল ধরণের মানবিক সহায়তার জন্য বাংলাদেশের জনগণের প্রশংসা করেন।

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর আতিকুল ইসলাম উল্লেখ করেন যে, বাস্তুচ্যুত সম্প্রদায়ের জন্য যে কোনও স্বল্প বা দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করার সময় শিক্ষায় ভাষাগত বাধা, সাংস্কৃতিক ও মানসিক বিষয়গুলির মতো বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ বিবেচনা করা উচিত।  তিনি বিশ্বাস করেন যে, এই সঙ্কটের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের জন্য এই কোর্সটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তিনি আশাবাদী যে ভবিষ্যতে যদি প্রয়োজন হয় তবে এই কোর্সটি ডিপ্লোমা ডিগ্রি বা এমনকি মাস্টার্স ডিগ্রিতে উন্নীত করা যেতে পারে।

সিপিএস সমন্বয়ক ড. ইশরাত জাকিয়া সুলতানা এই কোর্সের সমন্বয়কারী। বাংলাদেশসহ ৮ টি দেশ থেকে বিভিন্ন পেশার ৩৮ জন অংশ নিয়েছেন। ২২ জন রিসোর্স পার্সনের মধ্যে রাষ্ট্রদূত বব রে অন্যতম যিনি জাতিসংঘে কানাডার স্থায়ী প্রতিনিধি এবং ২০১৭ সালে মিয়ানমারে কানাডার বিশেষ দূত ছিলেন। কোর্স পরিচালনার জন্যে রিসোর্স পার্সনদের মধ্যে রাষ্ট্রদূত, শিক্ষাবিদ, প্রশিক্ষক এবং বিশ্বের বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞ রয়েছেন।