মানুষ যেভাবে বাড়ি গেল, তাতে আমরা মর্মাহত: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

0
78
ফাইল ছবি

ঈদ উপলক্ষে ঘরে ফেরা মানুষের ঢল দেখে মর্মাহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

তিনি বলেন, করোনা পরিস্থিতি মোটামুটি নিয়ন্ত্রণে আছে। মানুষ যেভাবে বাড়িতে গেল, তাতে আমরা খুবই মর্মাহত হলাম। সরকার তো চেষ্টা করেছে মানুষকে সুরক্ষিত রাখার। সে জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল। কিন্তু মানুষ সেই সুরক্ষা মানল না। চলে গেল যে যেমনে পারে।

উপহার হিসেবে বাংলাদেশকে চীনের দেওয়া পাঁচ লাখ ডোজ করোনার টিকা হস্তান্তর উপলক্ষে আজ বুধবার (১২ মে) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা এটি আশা করব, তারা যেন নিজের জায়গায় গিয়ে বেশি ঘোরাফেরা না করেন। তারা যেন ভাইরাসটা ছড়িয়ে না দেন। আমরা আল্লাহু তাআলার কাছে দোয়া করি, যাতে ভাইরাসটি ছড়িয়ে না যায়।

মন্ত্রী বলেন, এই দুঃসময়ে আমাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং ও দেশটির নাগরিকদের ধন্যবাদ জানাই। আমরাও চীনের পাশে দাঁড়িয়েছিলাম, যখন চীনের উহানে করোনা ছড়িয়েছিল।

তিনি বলেন, এই পাঁচ লাখ ভ্যাকসিন আমরা দুই ডোজ করে আড়াই লাখ লোককে দিতে পারবো। আমাদের দেশে যা প্রয়োজন তা দুই দিনেই লেগে যেতে পারে। আমরা চেষ্টা করছি আরও ভ্যাকসিন আনার জন্য। যাতে যাদের ভ্যাকসিন প্রয়োজন সবাইকে যেন দিতে পারি।

আমরা চীনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আলোচনা করেছি পরবর্তীতে ভ্যাকসিন আনার বিষয়ে। তিনি আমাদের জানিয়েছেন, চীন বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে। আমি অনুরোধ করেছি, প্রতি মাসেই ভাগ করে ভ্যাকসিন দেওয়ার জন্য, যেন আমরা টিকাদান কর্মসূচি অব্যাহত রাখতে পারি। তারা আশ্বাস দিয়েছে, এ বিষয়ে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাবে। জুন-জুলাইয়ে নতুন করে ভ্যাকসিন দেওয়ার চেষ্টা করবে, যোগ করেন জাহিদ মালেক।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একইভাবে আমরাও চীনের পাশে দাঁড়িয়েছিলাম; যখন প্রথম উহানে করোনা ভাইরাস দেখা দিলো এবং সেখান থেকে ছড়িয়ে গেরো চীনে ও পুরো বিশ্বে। যতদূর সম্ভব ছিল ওষুধপত্র উপহার হিসেবে আমরা চীনকে দিয়েছিলাম। সেই বন্ধুত্ব আবারও তারা দেখালেন। পাঁচ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন তারা পাঠালেন। এই ভ্যাকসিন ডব্লিউএইচও’র অনুমোদন পেয়েছে। আমি জানি, চীনে এই ভ্যাকসিনের ব্যাপক ব্যবহার হচ্ছে। বিশ্বের অনেকগুলো দেশে ব্যবহার হচ্ছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, করোনা ভাইরাসকে নিয়ন্ত্রণ করা ও মানুষকে সুরক্ষিত রাখার জন্য ভ্যাকসিন একটি পন্থা। পাশাপাশি মাস্ক পরা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা একটি বড় বিষয়। আমরা চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি এবং মানুষ তার সুবিধা পাচ্ছে। আমাদের দেশে মোটামুটি নিয়ন্ত্রণে আছে।

অর্থসূচক/কেএসআর