আনভীরের আগাম জামিন শুনানি হচ্ছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক

0
232

বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীরের আগাম জামিন আবেদনের ওপর আজ বৃহস্পতিবার (২৯ এপ্রিল) শুনানি হচ্ছে না। রাজধানীর গুলশানের একটি ফ্ল্যাট থেকে কলেজ শিক্ষার্থী মোসারাত জাহান মুনিয়ার (২১) লাশ উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তিনি হাইকোর্টে আগাম জামিন আবেদন করেছিলেন।

আজ বৃহস্পতিবার (২৯ এপ্রিল) লকডাউনে আগাম জামিনের আবেদনপত্র পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত শুনানি করবে না বলে জানিয়ে একটি নোটিশ টাঙিয়ে দিয়েছেন হাইকোর্ট।

আদালতের শুরুতেই বিচারপতি মামনুন রহমান বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতিতে লকডাউন চলা অবস্থায় আমরা কোনও আগাম জামিন শুনবো না। যেগুলো কজলিস্টে আগাম জামিনের শুনানির জন্য রাখা হয়েছিল সেটা অনভিপ্রেত। সেগুলো ডিলিট করে দেওয়া হবে।’

মোসারাত জাহান মুনিয়া নামে এক তরুণীর আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলার আসামি সায়েম সোবহান আনভীর আনভীরের পক্ষে আদালতে শুনানি করার কথা ছিল ফৌজদারি আইন বিশেষজ্ঞ বিচারপতি (অব.) মনসুরুল হক চৌধুরী, সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ ও সিনিয়র আইনজীবী এ এফ এম মেজবাহ উদ্দিনের।

গত সোমবার (২৬ এপ্রিল) রাতে গুলশানের একটি ফ্ল্যাট থেকে মোসারাত জাহান মুনিয়া নামে এক তরুণীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় মুনিয়ার বোন আত্মহত্যার প্ররোচনায় একটি দায়ের করেন। গুলশান থানায় দায়ের হওয়া মামলায় আসামি করা হয় বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় এই ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর ব্যবস্থাপনা পরিচালককে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, সায়েম সোবহানের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল মুনিয়ার। প্রতিমাসে এক লাখ টাকা ভাড়ার বিনিময়ে সায়েম সোবহান মুনিয়াকে ওই ফ্ল্যাটে রেখেছিলেন। আনভীর নিয়মিত ওই বাসায় যাতায়াত করতেন।

গুলশান থানা সূত্রে জানা যায়, মুনিয়া নিহত হওয়ার ঘটনায় এখন পর্যন্ত বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। বাড়ির মালিক, মালিকের মেয়ের জামাইসহ বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে মামলা সংক্রান্ত বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছেন তারা। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করছে পুলিশ।

মুনিয়া যে ফ্ল্যাটটিতে থাকতেন সেই ভবনের বেশকিছু সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজও ইতোমধ্যে সংগ্রহ করেছে পুলিশ। সেসব সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ওই ফ্ল্যাটে সায়েম সোবহান আনভীরের যাতায়াতের প্রমাণ পেয়েছেন তারা। তবে ঘটনার দিন বা এর আগের দিন মুনিয়ার ফ্ল্যাটে আনভীরের যাতায়াতের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এছাড়া সিসিটিভি ফুটেজে এই দুই দিন সন্দেহজনক কারও যাতায়াত ওই বাড়ি কিংবা ফ্ল্যাটের আশপাশে পাওয়া যায়নি।

অর্থসূচক/কেএসআর