ট্রাইব্যুনাল করে হেফাজতের বিচার দাবি সংসদে

নিজস্ব প্রতিবেদক

0
192

সহিংসতায় জড়িত হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের ‘বিশেষ ট্রাইব্যুনাল’ করে বিচারের দাবি উঠেছে জাতীয় সংসদে।

আজ শনিবার (০৩ এপ্রিল) ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সিনিয়র সংসদ সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম সংসদে এ দাবি তোলেন।

অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, বিএনপি-জামায়াত-হেফাজত ইসলামবিরোধী। নামে হেফাজতে ইসলাম হলেও তারা ইসলামবিরোধী, জঙ্গি, স্বাধীনতাবিরোধী। এরা দেশের শত্রু, রাষ্ট্রের শত্রু। এদের কোনো ছাড় দেওয়া যাবে না। এদের বিরুদ্ধে কঠোর হতে হবে। দরকার হলে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল করে অবিলম্বে তাদের বিচার করতে হবে।

এসময় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর এই সদস্য ২০১৩ সালের ৫ মে এর ঘটনায় হেফাজত ইসলামের ‘জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের’ বিরুদ্ধে যে মামলা হয়েছিল, তার দ্রুত তদন্ত করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।

শেখ সেলিম বলেন, কোনো বিএনপি-জামায়াত অপশক্তি যেন বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রীকে হত্যা করতে না পারে আল্লাহর কাছে সেই দোয়া করি। জন্মশতবার্ষিকী আর সুবর্ণজয়ন্তীর জন্য অনেক কিছু আমরা সহ্য করে গেছি। আর কোনো কিছু সহ্য করা হবে না। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনাকে আরও কঠোর হতে হবে। আপনার পেছনে ১৪ কোটি মানুষ আছে। এই অপশক্তিকে ছাড় দেওয়া যাবে না।

তিনি বলেন, ইসলাম শান্তির ধর্ম, মানবতার ধর্ম। ইসলাম ধ্বংস করে না। ইসলাম সৃষ্টি করে। হেফাজতের নামে যারা জঙ্গি-সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়। ইসলামের হেফাজত কোনো সন্ত্রাসী-জঙ্গিরা করতে পারে না। ইসলাম হেফাজত করবে আল্লাহ।

যারা বাংলাদেশকে স্বীকার করে না তাদের বাংলাদেশে থাকার কোনো অধিকার নেই উল্লেখ করে শেখ সেলিম আরও বলেন, যারা বিশ্ববাসীর কাছে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। দেশের অর্জন ও স্বাধীনতার গৌরবকে নস্যাৎ করার চেষ্টা করছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। দরকার হলে ট্রাইব্যুনাল করে অবিলম্বে তাদের বিচার করতে হবে। হেফাজতের জঙ্গিরা যেসব মাদরাসা থেকে রাস্তায় বের হয়ে মানুষ হত্যা করে। মানুষের বাড়িঘর ও স্থাপনায় আক্রমণ করে ও পুড়িয়ে দেয়। সেইসব মাদরাসাও বন্ধ করে দিতে হবে। ইসলাম কখনও সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দিতে পারে না।

একাত্তরের পরাজিত শক্তি, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে মেনে নিতে পারেনি; সেই শক্তি আমাদের সুন্দর অনুষ্ঠানকে কলঙ্কিত করতে চট্টগ্রাম ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সহিংসতা ঘটিয়েছে অভিযোগ তুলে শেখ সেলিম বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও ২৬ মার্চ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে বিএনপি-জামায়াত স্বাধীনতাবিরোধী হেফাজতে ইসলাম হাটহাজারীতে তাণ্ডব চালায়। তারা থানা আক্রমণ করে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। পুলিশের অস্ত্র ছিনিয়ে নেয়। তারা ১০ জন পুলিশকে বোমা মেরে আহত করে। পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। বিভিন্ন স্থাপনায় আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। ভূমি অফিস ও বিভিন্ন স্থাপনাও পুড়িয়ে দেয়।

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে এমপি সেলিম বলেন, তাদের (হেফাজত নেতাকর্মী) মনে রাখতে হবে- বাংলাদেশ তালেবান রাষ্ট্র নয়। এটা পাকিস্তান নয়। সন্ত্রাসী-জঙ্গিদের বাংলার মাটিতে কোনো স্থান নেই। সরকারকে অবশ্যই কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। স্বাধীন দেশে এভাবে চলতে পারে না।

অর্থসূচক/কেএসআর