মোদীর বাংলাদেশ সফরের উদ্দেশ্য নিয়ে বিএনপির প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক

0
246

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঢাকা সফরের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিএনপি।

দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এখানে কি ভারতের প্রধানমন্ত্রী সুবর্ণজয়ন্তী পালন করতে আসছেন, নাকি পশ্চিম বাংলাতে (পশ্চিমবঙ্গ) যে নির্বাচন হচ্ছে তার প্রচারণা চালাতে আসছেন। পশ্চিম বাংলা, ভারতের পত্রিকা ও আমাদের দেশের পত্রিকায় সেই ধরনের ইঙ্গিতই আমরা পাচ্ছি।

আজ মঙ্গলবার (২৩ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর হলি ফ্যামেলি রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন নবী খান সোহেলকে দেখে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে বিএনপি মহাসচিব একথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, মূলত তার (নরেন্দ্র মোদী) এই সফরের লক্ষ্য হচ্ছে, সেই সমস্ত মন্দির তিনি পরিদর্শন করবেন যেগুলোতে তাদের অনুসারীরা রয়েছেন। তাদের পশ্চিম বাংলায় যে ভোট রয়েছে, তার জন্য তিনি চেষ্টা করছেন। এটা পত্রিকায় লেখা হচ্ছে।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, সরকারের পক্ষে থেকে নেওয়া সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে বিদেশি মেহমানরা আসছেন। এই কারণ দেখিয়ে আমাদের (বিএনপির) সুবর্ণজয়ন্তীর কর্মসূচিগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মানুষের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে আমাদের প্রতিবেশী তিনটি বন্ধুদেশের প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি এসে গেছেন।

আগামী ২৬ মার্চ বন্ধুদেশ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আসবেন- উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, আমরা সবসময় দেশি-বিদেশি বন্ধুদের স্বাগত জানাই। সুবর্ণজয়ন্তীতে আমরা তাদের অবশ্যই স্বাগত জানাব। কিন্তু দুর্ভাগ্য হচ্ছে, সরকার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করছে জনগণকে বাদ দিয়ে। জনগণ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। সরকারের সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানগুলোতে মুক্তিযোদ্ধাদের কোনো অবস্থান নেই। এমনকি রাজনৈতিক দলগুলোর কোনো অবস্থান নেই। শুধুমাত্র বিদেশি মেহমানদের নিয়ে এসে দেখানো হচ্ছে, তাদের দিয়ে বলানো হচ্ছে, এখানে (বাংলাদেশে) উন্নয়নের লহরী বয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছরে দুর্ভাগ্যক্রমে আমরা আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার হারিয়ে ফেলেছি। মানুষের অধিকার হারিয়ে ফেলেছি। যে পরিস্থিতিতে সরকার দেশ পরিচালনা করছে, তা কোনোক্রমেই গণতান্ত্রিক বলা যায় না। এমনকী দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব আজ বিপন্ন হয়ে এই বিষয়গুলো আমাদের উদ্বিগ্ন করছে। আমরা চাই দেশে শান্তি থাকুক। আমরা চাই দেশে বিদেশিরা আসুক। অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়ন হোক। স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রেখে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা বরাবরই বলে আসছি, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও উন্নত করতে হলে বাংলাদেশের সঙ্গে যে অভিন্ন নদীগুলো রয়েছে তার হিস্যার মীমাংসা হওয়া উচিত। সীমান্ত হত্যা বন্ধ হওয়া উচিত। এটা অমানবিক, পৃথিবীর কোনো দেশে এটা আছে কি না, জানি না। ভারতের সঙ্গে আমাদের এত বন্ধুত্বের কথা বলে সরকার। আর এটার সমাধান করতে পারে না! বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার কানেক্টিভিটিতে আমাদের কী লাভ হচ্ছে, তা জনগণের কাছে স্পষ্ট হওয়া উচিত।

তিনি আরও বলেন, ভারতের সঙ্গে পানির সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। ফেনী নদীর পানিও তারা একতরফাভাবে নিয়ে গেছে। আমরা এখনও প্রত্যাশা করি বাংলাদেশ সরকার আমাদের দাবিগুলো সঠিকভাবে উপস্থাপন করে সমাধান করবে।

করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির প্রসঙ্গ তুলে মির্জা ফখরুল বলেন, করোনার সমস্যা সমাধানে সরকার ব্যর্থ। করোনা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। সরকার সময় পেয়েছে কিন্তু হাসপাতালে বেড নেই। মানুষের মধ্যে কোনো সচেতনতা বাড়ানোর কার্যকর পদক্ষেপ নেই। করোনা মোকাবিলায় সরকারের উচিত জরুরিভিত্তিতে সবার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া। লকডাউন ইস্যুতে সবার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান বা ব্যবস্থা করতে হবে।

বিএনপি মহাসচিব জানান, প্রেসক্লাবের সামনে আমাদের প্রতিবাদ সমাবেশে পুলিশের গুলিতে হাবিব-উন নবী খান সোহেল গুরুতর আহত হয়েছেন। সোহেলের দ্বিতীয় দফায় অপারেশন হয়েছে। তার ক্ষত খুব ভয়াবহ। যেহেতু তার ডায়াবেটিস আছে, সেহেতু খুব সাবধানে তার চিকিৎসাটা করা হচ্ছে। আপাতত তিনি ভালো আছেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার ও শায়রুল কবির খান।

প্রসঙ্গত, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে ১৭ মার্চ থেকে ১০ দিনব্যাপী বিশেষ অনুষ্ঠানমালা শুরু হয়েছে। ২৬ মার্চ পর্যন্ত এ অনুষ্ঠান চলবে। অনুষ্ঠানে যোগ দিতে প্রথম বিশ্বনেতা হিসেবে ১৭ মার্চ ঢাকায় আসেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহাম্মদ সলিহ। দ্বিতীয় বিশ্বনেতা হিসেবে ১৯ মার্চ ঢাকায় আসেন শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে। নেপালের প্রেসিডেন্ট বিদ্যা দেবী ভান্ডারি দুদিনের সফরে ২২ মার্চ ঢাকায় আসেন। সর্বশেষ ২৩ মার্চ ঢাকায় পৌঁছান ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লোটে শেরিং। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২৬ মার্চ ঢাকায় আসবেন।

অর্থসূচক/কেএসআর