সিএমএসএমই প্রণোদনা: ১৯ ব্যাংকের ঋণ বিতরণ ৫০ শতাংশের নিচে

নাজমুল হুদা

0
211

করোনার টালমাটাল অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন দেশের অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি শিল্প (সিএমএসএমই) খাতের উদ্যোক্তরা। তাই এই খাতের উদ্যোক্তাদের চলতি মূলধন সুবিধা দিতে ২০ হাজার কোটি টাকার তহবিল ঘোষণা করে সরকার। প্রণোদনার এই প্যাকেজ বাস্তবায়নের জন্য চলতি মাস (৩১ মার্চ) পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে সিএমএসএমই খাতে ঋণ বিতরণে বেশ কিছু ব্যাংক অনেক পিছিয়ে রয়েছে। এখন পর্যন্ত ১৯ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান লক্ষ্যমাত্রার ৫০ শতাংশও প্রণোদনার ঋণ বিতরণ করতে পারেনি। নতুন করে সময় বাড়ানো না হলে এই ঋণ বিতরণের সময় বাকি থাকবে আর মাত্র ১০ দিন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে জানা যায়, সরকার ঘোষিত ২০ হাজার কোটি টাকার সিএমএসএমই খাতের এই প্রণোদনা তহবিল থেকে ৯ শতাংশ সুদহারে গ্রাহকদের ঋণসুবিধা দেওয়া হয়। এর মধ্যে সরকার ৫ শতাংশ ভর্তুকি হিসেবে দিচ্ছে, আর ৪ শতাংশ সুদ গ্রাহককে দিতে হবে। এই সুবিধায় ২০২১ সালের ১১ মার্চ পর্যন্ত দেশের ব্যাংক ও ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো লক্ষ্যমাত্রার ৬৪ দশমিক ০১ শতাংশ যা টাকার অঙ্কে ১২ হাজার ৮০২ কোটি ৬৭ লাখ টাকা ঋণ দিতে পেরেছে। এরমধ্যে ১৯টি ব্যাংক লক্ষ্যমাত্রার ৫০ শতাংশ ঋণও বিতরণ করতে পারেনি।

খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ছোট খাতে ঋণ বিতরণে ব্যাংকগুলোর অনীহা রয়েছে। এই খাতের জন্য প্রণোদনা প্যাকেজের উপকারভোগীদের বিবেচনা করে সেসব অঞ্চলে ব্যাংকগুলো আরও ভালো নজর দিলে প্যাকেজটি যথাসময়ে কার্যকর হত। তবে কিছু ব্যাংকের এ বিষয়ে ঘাটতি রয়েছে।

তথ্যে পর্যালোচনায় দেখা যায়, সিএমএসএমই খাতের এই প্রণোদনা তহবিল থেকে অন্যান্য ব্যাংকগুলোর চেয়ে রাষ্ট্রায়ত্ব ছয় ব্যাংকের ঋণ বিতরণ সবচেয়ে কম। ব্যাংকগুলোর লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছিল দুই হাজার ৫৫২ কোটি টাকা। এরমধ্যে আলোচ্য সময়ে ব্যাংকগুলো বিতরণ করেছে এক হাজার ৪২০ কোটি ৭৭ লাখ টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার ৫৫ দশমিক ৬৭ শতাংশ। তবে এরমধ্যে সবচেয়ে কম ঋণ বিতরণ করেছে জনতা ব্যাংক যা লক্ষ্যমাত্রার ১১ দশমিক ৮৪ শতাংশ, টাকার অংকে যা ১০৩ কোটি ১৫ লাখ।

বেসরকারি মালিকানার বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মধ্যে ১৫টি ব্যাংক সিএমএসএমই খাতে প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় লক্ষ্যমাত্রার ৫০ শতাংশ ঋণ বিতরণ করতে পারেনি। এরমধ্যে শরিয়াহভিত্তিক ৪টি ব্যাংক অন্তর্ভূক্ত। ব্যাংকগুলো হলো- বাংলাদেশ কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড, আইএসআইসি ব্যাংক, মেঘনা ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড, এনসিসি ব্যাংক, এনআরবি ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামি ব্যাংক, পূবলী ব্যাংক, এসবিএসি ব্যাংক, স্টান্ডার্ড বাংক ও সীমান্ত ব্যাংক। এছাড়া তালিকায় শরিয়াহভিত্তিক আল আরাফা ইসলামি ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামি ব্যাংক ও আইসিবি ইসলামি ব্যাংক রয়েছে।

এছাড়াও বিদেশি মালিকানার হাবিব ব্যাংক লিমিটেড ও কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলনও লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেক ঋণ বিতরণ করতে পারেনি।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গর্ভনর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ অর্থসূচককে বলেন, ক্ষুদ্র খাতে ঋণ বিতরণে ব্যাংকের এক ধরণের অনীহা রয়েছে। এ কারণেই এখনো পুরোপুরি প্রণোদনা ঋণ বিতরণ করা সম্ভব হয়নি। এটা মঙ্গলজনক হয়নি। কারণ এসএমই খাতগুলো মধ্যবিত্ত-নিম্নবিত্ত আয়ের মানুষের কর্মসংস্থানের জায়গা। তাই এদের অর্থায়নটা বেশি প্রয়োজন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক যদি সরাসরি এসএমই খাতের উদ্যোক্তাদের ঋণ দেওয়ার একটা ব্যবস্থা করতে পারত, তাহলে এসএমই খাতের অর্থনৈতিক চাপটা কমে আসত। তবে এই খাতে দ্রুত ঋণ বিতরণে ব্যাংকগুলোকে এগিয়ে আসা উচিত। এটা বাস্তবায়ন করাটা খুব দরকারি। এমনিতেই এই খাতের উদ্যোক্তারা বিপাকে রয়েছেন, তারমধ্যে প্রণোদনার অর্থায়ন বিতরণ শতভাগ নিশ্চিত করতে না পারলে সেটা আরও খারাপ হবে।

অর্থসূচক/কেএসআর