সিনেটে বাইডেনের করোনা প্যাকেজ পাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

0
160

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ১.৯ ট্রিলিয়ন ডলারের করোনা তহবিল কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটেও পাস হয়েছে। স্থানীয় সময় শনিবার (০৬ মার্চ) সিনেটে এটি পাস হয়। তবে এদিন রিপাবলিকান দলের সিনেটরদের প্রত্যেকেই এই বিলের বিরোধিতা করেন।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণের এক সপ্তাহ আগেই বিশাল অঙ্কের এই প্রণোদনা প্যাকেজের পরিকল্পনা জানিয়েছিলেন বাইডেন। করোনায় ক্ষতিগ্রস্তদের আমেরিকান নাগরিকদের সহায়তার জন্য বাইডেন এই প্যাকেজ ঘোষণা করেছিলেন।

বিলটি সিনেটে পাস হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট বাইডেন এটিকে ‘অগ্রগতির আকেটি বড় পদক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এসময় তিনি আবারও দেশবাসীর জন্য কাজ করার প্রতিজ্ঞা করেন।

বিলটি পাসের আগে শনিবার দীর্ঘ ২৭ ঘণ্টার অধিবেশন চলে। ভোটাভুটিতে বিলের পক্ষে ৫০টি আর বিপক্ষে পড়ে ৪৯টি ভোট। এর মধ্যে সিনেটরদের প্রত্যেকেই এই বিলের বিরোধিতা করেন।

রিপাবলিকানরা বলেন, বিশাল এই ত্রাণ তহবিল অপ্রয়োজনীয় এবং করোনা মহামারির সঙ্গে এটি সম্পৃক্ত নয়। তবে এই বিলে ডেমোক্র্যাটদের বিভিন্ন বিষয়কে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে বলে এর আগে দাবি করেন বেশ কয়েকজন রিপাবলিকান সদস্য।

ডেমোক্র্যাটদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভ্যাকসিন কার্যক্রম এবং করোনা পরীক্ষাকে আরও গতিশীল এবং অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতেই এই প্রণোদনা প্যাকেজের পরিকল্পনা করা হয়েছে। ত্রাণ প্যাকেজের আওতায় করোনা মোকাবিলায় খরচ করা হবে ৪১২ বিলিয়ন ডলার আর ছোট ব্যবসার ক্ষেত্রে থাকছে ৪৪০ বিলিয়ন ডলার।

এই বিলের ফলে কমপক্ষে ১০ লাখ বাংলাদেশি আমেরিকানসহ সাড়ে ৮ কোটি মার্কিন নাগরিক উপকৃত হবেন বলে মনে করা হচ্ছে। পর্বতসম এই বিলে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান আরও দৃঢ় হবে বলে আশা প্রকাশ করছেন প্রেসিডেন্ট বাইডেন।

এই বিল পাসের ফলে বার্ষিক আয় ৭৫ হাজার ডলারের কম (স্বামী-স্ত্রীর দেড় লাখ ডলার) আয়ের মার্কিন নাগরিকরা মাথাপিছু এক হাজার ৪০০ ডলারের চেক পাবেন। আর বেকাররা সপ্তাহে ৪০০ ডলার করে ফেডারেল ভাতা পাবেন আগস্ট পর্যন্ত।

বাইডেনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের পরিবারগুলোর জন্য বরাদ্দ থাকছে এক ট্রিলিয়ন ডলার। যেখানে প্রত্যেক আমেরিকানকে সরাসরি দেওয়া হবে এক হাজার ৪০০ ডলার করে। এছাড়া করোনা মহামারি মোকাবিলায় ৪১ হাজার ৫০০ কোটি ডলার এবং ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য দেওয়া হবে ৪৪ হাজার কোটি ডলার। বিলে কোভিড-১৯ এর টিকাদান কর্মসূচি এবং করোনা শনাক্তকরণ পরীক্ষার গতি আরও বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে।

করোনা ভাইরাস মহামারিতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ যুক্তরাষ্ট্র। একক দেশ হিসেবে বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনাও এই দেশটিতেই। এছাড়া করোনায় আক্রান্তের সংখ্যাও ছাড়িয়েছে দুই কোটি ৮০ লাখ। একইসঙ্গে গত প্রায় এক বছরে ধীরে ধীরে বিপর্যস্ত হয়েছে মার্কিন অর্থনীতি। মানুষ কাজ হারিয়েছেন। বেতন কমে গেছে। বাড়ি থেকে বের হতে না পেরে বহু মানুষের ব্যবসার ক্ষতি হয়েছে। বর্তমানে দেশটিতে বেকারত্বের হার ৬ দশমিক ২ শতাংশ।

অর্থসূচক/কেএসআর