সিনেটে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্টের প্রস্তুতি

0
177

আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন সংসদের উচ্চ কক্ষে সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়ার প্রস্তুতি শুরু হলো৷ এই উদ্যোগ সফল হলে ট্রাম্প ২০২৪ সালের নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না৷

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল৷ নিম্ন কক্ষ হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভ সোমবার রাতে উচ্চ কক্ষ সিনেটের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ভাষণের মাধ্যমে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিদ্রোহে প্ররোচনার অভিযোগ পেশ করে৷ নিম্ন কক্ষে ডেমোক্র্যাটিক দলের নয় জন সদস্য প্রসিকিউটর হিসেবে এই আইনি প্রক্রিয়ায় সক্রিয় থাকবেন৷

গত ৬ জানুয়ারি উন্মত্ত জনতা যেভাবে ট্রাম্পের ডাকে সাড়া দিয়ে মার্কিন সংসদ ভবনের উপর হামলা চালিয়েছিল, তা কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না ডেমোক্র্যাটিক দলের নেতারা৷ এমনকি রিপাব্লিকান দলের মধ্যেও বিষয়টিকে ঘিরে অসন্তোষ দেখা গেছে, যদিও অনেক নেতা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়ায় সমর্থন করতে নারাজ৷ নিম্ন কক্ষ গত ১৩ জানুয়ারি ইমপিচমেন্টের পক্ষে ভোট দিলেও প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের প্রস্থানের আগে সেনেট সেই প্রস্তাব বিবেচনা করার সময় পায়নি৷ নিম্ন কক্ষে ১০ জন রিপাব্লিকান সদস্যও ইমপিচমেন্টের পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন৷ আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে সেই প্রক্রিয়ার সময় কমপক্ষে ১৭ জন রিপাব্লিকান সদস্যের সমর্থন না পেলে প্রস্তাব পাশ হবে না৷

ক্ষমতাকেন্দ্র থেকে বিদায়ের পর কোনো প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া নিয়ে রিপাব্লিকান দলের একাংশ প্রশ্ন তুলছে৷ এমনকি এর ফলে সংবিধান লঙ্ঘন করা হচ্ছে বলেও কেউ কেউ অভিযোগ তুলছেন৷ তবে এই আইনি প্রক্রিয়া শেষ পর্যন্ত সফল হলে ট্রাম্পকে ক্ষমতাচ্যুত করা না গেলেও ভবিষ্যতে তিনি দেশের কোনো উচ্চ পদ গ্রহণের অধিকার হারাতে পারেন৷ সে ক্ষেত্রে ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি আবার প্রার্থী হতে পারবেন না৷

আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি সিনেটে ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া শুরু হবার কথা৷ প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার আগে আত্মপক্ষ সমর্থনে যথেষ্ট প্রস্তুতি নেবার সুযোগ পাবেন৷ তাছাড়া বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন দ্রুত যে সব পদক্ষেপ নেবার চেষ্টা করছেন, সিনেট সেগুলো বিবেচনার সুযোগ পাবে৷ প্রেসিডেন্টের মনোনীত মন্ত্রিসভার সদস্যদের ছাড়পত্রের জন্যও এই সময়কাল অত্যন্ত জরুরি৷ ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া চালু হলে এমন সব প্রক্রিয়া বিলম্বিত হতো৷

প্রেসিডেন্ট বাইডেন নিজে সিনেটে ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়ার সাফল্য সম্পর্কে সংশয় প্রকাশ করেছেন বলে সংবাদ মাধ্যমের একাংশে দাবি করা হচ্ছে৷ তিনি আপাতত করোনা সংকটসহ একাধিক জরুরি বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে ব্যস্ত৷ ফলে বিষয়টি দলের উপরেই ছেড়ে দিয়েছেন৷ সিএনএন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বাইডেন বলেন, তাঁর মতে এই প্রক্রিয়া ছাড়া অন্য কোনো উপায় ছিল না৷ সূত্র: রয়টার্স, এএফপি

 

অর্থসূচক/এএইচআর