এআই শেয়ারে ব্যাপক বিক্রি, চাপের মুখে যুক্তরাষ্ট্র ও এশিয়ার পুঁজিবাজার

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের শেয়ারে ব্যাপক দরপতনের জেরে যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাজারে বড় ধসের পর চাপ তৈরি হয়েছে এশিয়ার বাজারগুলোতেও। বৃহস্পতিবার ওয়াল স্ট্রিটে বড় ধরনের বিক্রির পর শুক্রবার এশিয়ার অধিকাংশ প্রধান সূচকে দরপতন হয়েছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাজারে লেনদেন শুরুর আগে ফিউচার সূচকগুলোতে মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে।

শুক্রবার ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজের ফিউচার ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে। এসঅ্যান্ডপি ৫০০-এর ফিউচার কমেছে শূন্য দশমিক ৩৫ শতাংশ। তবে নাসডাক-১০০-এর ফিউচার শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে।

এশিয়ার বাজারে সবচেয়ে বেশি দরপতন হয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি সূচকে। সূচকটি ৬ শতাংশের বেশি কমেছে। জাপানের নিক্কেই ২২৫ কমেছে ৫ দশমিক ৯ শতাংশ, যা দেশটির পুঁজিবাজারকে বিয়ার মার্কেট বা দীর্ঘমেয়াদি নিম্নমুখী প্রবণতার পর্যায়ে নিয়ে গেছে। এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়ার এসঅ্যান্ডপি/এএসএক্স ২০০ সূচক শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ, হংকংয়ের হ্যাং সেং ১ শতাংশ এবং চীনের সিএসআই ৩০০ সূচক ১ দশমিক ৪৭ শতাংশ কমেছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাজারে ২০২৫ সালের এপ্রিলের পর এক দিনে সবচেয়ে বড় দরপতন হয়। দিন শেষে নাসডাক কম্পোজিট সূচক ৫ দশমিক ৫ শতাংশ কমে যায়। সূচকটি সাম্প্রতিক সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে ১০ শতাংশের বেশি নিচে নেমে কারেকশন বা সংশোধনের পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। একই দিনে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক কমেছে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ। ডাও জোন্স কমেছে ১ হাজার ৮০০ পয়েন্টের বেশি, যা ৩ দশমিক ৪ শতাংশের সমান।

বিক্রির চাপ থেকে রেহাই পায়নি এসঅ্যান্ডপি ৫০০-এর কোনো খাতই। তবে এআই অবকাঠামো ও ডেটা সেন্টার নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত কোম্পানিগুলোর শেয়ারে সবচেয়ে বেশি দরপতন হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ, সিনেট এবং টেক্সাসের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যের গভর্নর নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয় ডেটা সেন্টার নির্মাণের গতি কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে।

এদিন মাইক্রন টেকনোলজি ও অ্যাডভান্সড মাইক্রো ডিভাইসেসের (এএমডি) শেয়ারদর ১৭ শতাংশ করে কমেছে। ক্লাউড অবকাঠামো প্রতিষ্ঠান কোরউইভের শেয়ার কমেছে ১০ শতাংশ। বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর মধ্যে এনভিডিয়ার শেয়ারদর কমেছে ৯ শতাংশ। এতে ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ারদর নেতিবাচক অবস্থায় চলে গেছে। সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সাত প্রযুক্তি কোম্পানির বাজারমূল্য এক দিনে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি কমেছে।

সপ্তাহের হিসাবে তিনটি প্রধান সূচকই লোকসানের মুখে রয়েছে। চলতি সপ্তাহে নাসডাক কমেছে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ এবং এসঅ্যান্ডপি ৫০০ প্রায় ৩ শতাংশ। অন্যদিকে ডাও জোন্স তুলনামূলক ভালো অবস্থানে থাকলেও সূচকটি শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে।

তবে এই দরপতনকে বিনিয়োগের সুযোগ হিসেবে দেখছেন জি স্কয়ার্ড প্রাইভেট ওয়েলথের প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা ভিক্টোরিয়া গ্রিন। বৃহস্পতিবার সিএনবিসিকে তিনি বলেন, তাঁর মতে, এআই খাতের বিনিয়োগের প্রবণতা এখনো শেষ হয়ে যায়নি। বরং দরপতনের ফলে কিছু শেয়ার তুলনামূলক কম দামে কেনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বিশেষ করে মেমোরি বা মেমোরি চিপ উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোর প্রতি আগ্রহের কথা জানিয়েছেন তিনি। চলতি আয় মৌসুমে বিভিন্ন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ মেমোরি চিপের সক্ষমতা-সংকটের কথা তুলে ধরেছে। অর্থনীতিতে মন্দা না থাকলে বাজারের অস্থিরতার মধ্যে দরপতনকে কাজে লাগিয়ে বিনিয়োগ করা লাভজনক হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের অক্টোবর মাসের কর্মসংস্থান প্রতিবেদন প্রকাশের কথা রয়েছে। ডাও জোন্সের পূর্বাভাস অনুযায়ী, গত মাসে দেশটিতে নতুন করে ৫৯ হাজার কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। একই সময়ে বেকারত্বের হার ৪ দশমিক ২ শতাংশে অপরিবর্তিত থাকতে পারে। বাজারের পরবর্তী গতিপথ নির্ধারণে এই প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.