ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা থেকে সৌদি আরবকে রক্ষায় দেশটিতে যুদ্ধবিমান মোতায়েন করছে যুক্তরাজ্য।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ব্রিটিশ সরকার এ ঘোষণা দিয়েছে।
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রয়্যাল এয়ারফোর্সের টাইফুন যুদ্ধবিমান সৌদি আরবের বিভিন্ন শহর ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষায় প্রতিরক্ষামূলক আকাশ অভিযান পরিচালনা করবে।
গত দুই মাসে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে সৌদি আরবের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও তেল স্থাপনায় একাধিকবার হামলা চালিয়েছে হুথি বিদ্রোহীরা।
যুক্তরাজ্য আগে থেকেই সৌদি আরবকে আকাশে জ্বালানি সরবরাহের সহায়তা দিয়ে আসছে। পাশাপাশি দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষায় আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও ব্রিটিশ সেনাসদস্যও মোতায়েন করেছে।
ব্রিটিশ সরকারের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, সৌদি আরবে পাঠানো টাইফুন যুদ্ধবিমানগুলো হুথিদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার কাজে ব্যবহার করা হবে। এসব যুদ্ধবিমান দিয়ে ইয়েমেনে কোনো ধরনের হামলা চালানো হবে না বলেও তিনি স্পষ্ট করেছেন।
গত জুলাইয়ে সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হয়। ওই মাসে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ইয়েমেনের রাজধানী সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা চালায়। সে সময় ইরান থেকে আসা একটি বিমান বিমানবন্দরটিতে অবতরণ করছিল। তবে হামলায় বিমানটির কোনো ক্ষতি হয়নি।
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে হুথিরা লোহিত সাগরে সৌদি আরবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজ চলাচল বন্ধ করার ঘোষণা দেয়। একই সঙ্গে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি দেয় তারা।
হুথিদের দাবি, সৌদি আরবকে তাদের ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করতে হবে। এ দাবিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে হামলা ও পাল্টা হামলা শুরু হয়।
অন্যদিকে, ইয়েমেনের স্থলভাগেও সৌদি সমর্থিত সরকারি বাহিনীর সঙ্গে হুথিদের সংঘর্ষ চলছে। হুথিরা দেশটির আরও ভূখণ্ড নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এমন পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের নিরাপত্তা জোরদারে যুক্তরাজ্যের যুদ্ধবিমান মোতায়েনের সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.