ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে চলমান তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই সৌদি আরবের আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৃথক হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলায় তিনজন নিহত এবং ৩৬ জন আহত হয়েছেন।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সৌদি আরবের জেনারেল অথরিটি অব সিভিল এভিয়েশন (জিএসিএ) এক বিজ্ঞপ্তিতে হতাহতের এ তথ্য জানায়।
জিএসিএর তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার ও বুধবার পৃথক সময়ে বিমানবন্দর দুটিতে হামলা চালানো হয়। এর মধ্যে আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় মরক্কো ও আলজেরিয়ার দুই নাগরিক নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ২৮ জন।
আবহায় আহতদের মধ্যে দুজন সৌদি নাগরিক ছাড়াও বাংলাদেশি ও ফিলিপাইনের নাগরিক রয়েছেন। আহত কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
অন্যদিকে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৃথক হামলায় সুদানের এক নাগরিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও আটজন আহত হন। আহতদের মধ্যে পাঁচজন সৌদি, দুজন মিসরীয় এবং একজন পাকিস্তানি নাগরিক রয়েছেন।
সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলায় দুই বিমানবন্দরের অবকাঠামো ও অন্যান্য সম্পদের উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। হামলার পরপরই আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। একই সঙ্গে যাত্রী ও বিমানবন্দর কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে সৌদি আরবের দুই বিমানবন্দরে হামলার দায় স্বীকার করেছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। গোষ্ঠীটির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেছেন, রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন এবং আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালানো হয়েছে।
সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে দীর্ঘদিনের সংঘাতের মধ্যেই নতুন করে বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা ঘটল। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে হুথিদের সংঘাত এর আগেও সৌদি ভূখণ্ডে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
দুই বিমানবন্দরে হামলা ও হতাহতের ঘটনায় সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা বেসামরিক যাত্রী ও কর্মীদের নিরাপত্তার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার ঝুঁকিও সামনে এনেছে।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.