অনুমোদনহীন গুদামে শুল্কমুক্ত পণ্য মজুত, গুলশানে টস বন্ডের চার ওয়্যারহাউজ সিলগালা

অনুমোদনের বাইরে থাকা ওয়্যারহাউজে বন্ড সুবিধায় আমদানি করা শুল্কমুক্ত পণ্য মজুতের সন্ধান পাওয়ায় রাজধানীর দক্ষিণ গুলশানে ‘টস বন্ড প্রাইভেট লিমিটেডের’ চারটি ওয়্যারহাউজ সিলগালা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাতে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) যৌথ অভিযানের পর এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জানিয়েছে।

এনবিআর জানায়, টস বন্ড প্রাইভেট লিমিটেডের অনুমোদিত বা ঘোষিত ওয়্যারহাউজের সংখ্যা দুটি। তবে সরেজমিনে গিয়ে প্রতিষ্ঠানটির মোট চারটি ওয়্যারহাউজে পণ্য মজুতের তথ্য পাওয়া যায়। এর মধ্যে দুটি ওয়্যারহাউজ অনুমোদিত তালিকার বাইরে বলে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা হয়েছে। বন্ড সুবিধায় আমদানি করা শুল্কমুক্ত পণ্য অনুমোদিত ওয়্যারহাউজের বাইরে কীভাবে রাখা হয়েছে এবং সেখান থেকে কোনো পণ্য স্থানান্তর বা অপসারণ করা হয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের কাজ চলছে।

অভিযান-সংশ্লিষ্টরা জানান, বন্ড সুবিধায় আমদানি করা পণ্য নির্ধারিত ও অনুমোদিত স্থানে সংরক্ষণের বিধান রয়েছে। অনুমোদিত ওয়্যারহাউজের বাইরে এসব পণ্য পাওয়া গেলে এর বৈধতা, মজুতের হিসাব এবং পণ্য স্থানান্তরের অনুমোদনসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো যাচাই করা প্রয়োজন। এ কারণেই তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওয়্যারহাউজগুলো সিলগালা রাখা হয়েছে।

টস বন্ড লিমিটেডের বিরুদ্ধে বিশেষ সুবিধায় কূটনীতিকদের নামে মদ এনে বিক্রির অভিযোগ বেশ পুরোনো। ২০২৩ সালে ডিপ্লোম্যাটিক বন্ডের আওতায় মদ এনে সরকারের ২৪৯ কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতির প্রমাণ পেয়েছিল এনবিআরের শুল্ক বিভাগ।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ডিএনসি জানায়, রাজধানীর গুলশানে ‘টিওএস বন্ড’ নামের একটি মদের ওয়্যারহাউজে যৌথ অভিযান চালিয়ে আমদানি করা মদ ও বিয়ার সংরক্ষণ এবং হিসাব ব্যবস্থাপনায় একাধিক অনিয়ম শনাক্ত করা হয়েছে। পরে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির ওয়্যারহাউজ সিলগালা করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিএনসির নেতৃত্বে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এবং এসআরবির সমন্বয়ে গঠিত একটি দল গুলশানে টিওএস বন্ড প্রাইভেট লিমিটেড নামের ওই বন্ডেড ওয়্যারহাউজে যৌথ অভিযান চালায়।

ডিএনসি আরও জানায়, অভিযানকালে প্রতিষ্ঠানের রেজিস্টার, এনবিআর অনুমোদিত সফটওয়্যার এবং গুদামে সংরক্ষিত পণ্যের সরেজমিন তথ্য যাচাই করেন কর্মকর্তারা। এ সময় সফটওয়্যারে প্রতিষ্ঠান থেকে পণ্য ছাড় হয়েছে দেখানো হলেও ওয়্যারহাউজে ১৪৪ ক্যান বিয়ার, ১২ বোতল হুইস্কি ও ৬ বোতল নিমিরফ পাওয়া যায়। অর্থাৎ সফটওয়্যারে এসব পণ্য প্রতিষ্ঠান থেকে ছাড় হয়েছে বলে দেখানো হলেও সরেজমিনে সেগুলো প্রতিষ্ঠানের হেফাজতেই পাওয়া যায়।

এ ছাড়া আমদানি করা ২ হাজার ২৫০ কার্টন হেইনেকেন বিয়ার প্রতিষ্ঠানের সফটওয়্যারে গত ৩ সেপ্টেম্বর অন্তর্ভুক্ত দেখানো হয়। তবে যৌথ অভিযানে যাচাই করে দেখা যায়, ওই পণ্যগুলো বাস্তবে প্রতিষ্ঠানের ওয়্যারহাউজে পাওয়া যায়নি। প্রতিষ্ঠানের মোট চারটি ফ্লোরের মধ্যে দুটি ফ্লোর ব্যবহারের ক্ষেত্রে কাস্টমসের প্রয়োজনীয় অনুমোদনসংক্রান্ত তথ্যও পাওয়া যায়নি।

অভিযানে এসব অসংগতি ও অনিয়ম শনাক্ত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির ওয়্যারহাউজ সিলগালা করা হয়। বিষয়টি অধিকতর যাচাই এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

অর্থসূচক/

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.