ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ ও ওড়িশা উপকূল অতিক্রম করা গভীর নিম্নচাপটি আরও পশ্চিম-উত্তর–পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে যেতে পারে। তবে এর প্রভাবে আজ (২৪ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা ও উত্তর বঙ্গোপসাগরে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে এবং খুব বেশি বৃষ্টি না-ও হতে পারে।
বৃহস্পতিবার আবহাওয়া অধিদপ্তরের সবশেষ ৮ নম্বর সামুদ্রিক বুলেটিনে বলা হয়েছে, উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি পশ্চিমউত্তরপশ্চিমদিকে অগ্রসর হয়ে গত মধ্যরাতে (২৩ সেপ্টেম্বর) ভারতের উত্তর অন্ধ্র প্রদেশ-দক্ষিণ উড়িষ্যা উপকূল অতিক্রম করে বর্তমানে উত্তর অন্ধ্র প্রদেশ ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ উড়িষ্যা উপকূলীয় এলাকায় স্থল গভীর নিম্নচাপ আকারে অবস্থান করছে। এটি আরো পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ক্রমান্বয়ে দুর্বল হতে পারে। এর প্রভাবে সমুদ্র বন্দরসমূহ, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ওপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
আজ সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের অধিকাংশ জায়গায়; ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে। সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
অপরদিকে দেশের উত্তরাঞ্চলের তিস্তা নদীর পানি নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার কিছু এলাকায় আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে। এতে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তরাঞ্চলের ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি সমতল কমেছে। তবে তিস্তা নদীর পানি সমতল বেড়েছে। আগামী তিন দিন এসব নদীর পানি সমতল আরও বাড়তে পারে।
বর্তমানে দেশের সব প্রধান নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে বর্তমানে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থান করছে।
আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আগামী তিন দিন দেশের অভ্যন্তরে এবং তৎসংলগ্ন উজানে মাঝারি থেকে ভারি এবং কোথাও কোথাও অতি ভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদ-নদীর পানি সমতল স্থিতিশীল রয়েছে। আগামীকাল পর্যন্ত তা স্থিতিশীল থাকতে পারে। এরপর চার দিন পানি কমতে পারে। গঙ্গা নদীর পানি সমতল কমেছে। অন্যদিকে পদ্মার পানি সমতল স্থিতিশীল রয়েছে। আগামী দুই দিন পদ্মার পানি কমতে পারে এবং পরবর্তী তিন দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে।
এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা-কুশিয়ারা নদ-নদীর পানি সমতল কমেছে। আগামী একদিন সুরমা নদীর পানি বাড়তে পারে এবং পরবর্তী দুই দিন কমতে পারে। কুশিয়ারা নদীর পানি আগামী একদিন কমে পরবর্তী দুই দিন বাড়তে পারে।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.