যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সঙ্গে ১১টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।
বুধবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইডলাইনে আয়োজিত চুক্তি সই অনুষ্ঠানে বোয়িংয়ের কমার্শিয়াল সেলস অ্যান্ড মার্কেটিংয়ের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্র্যাড ম্যাকমুলেন ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চেয়ারম্যান রুমি এ. হোসেন উপস্থিত ছিলেন। তারা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন।
বোয়িংয়ের এক বিবৃতি অনুযায়ী, বিমানের এই কেনাকাটায় পাঁচটি ৭৮৭-১০ এবং ছয়টি ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজ অন্তর্ভুক্ত।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চেয়ারম্যান রুমি এ হোসেন বলেন, আজকের এই সম্পূরক চুক্তি বিমানের বহর আধুনিকায়ন এবং নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
যদিও বিমান কেনার এ সিদ্ধান্ত নিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আগে থেকেই নানা বিতর্ক ও সমালোচনা ছিল। বিশেষ করে, বাংলাদেশের সরকার যখন অর্থনৈতিক চাপের কথা বলছে তখন নতুন করে বিলিয়ন ডলার খরচ করে বিমান কেনার এ সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা করেন অনেক বিশ্লেষক।
বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স তাদের আন্তর্জাতিক রুটে ৭৮৭, ৭৭৭ এবং ৭৩৭ নেক্সট-জেনারেশন উড়োজাহাজ পরিচালনা করছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং ইউরোপের প্রধান শহরগুলোর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে।
বোয়িংয়ের কমার্শিয়াল সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং বিভাগের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্র্যাড ম্যাকমুলেন বলেন, বিমানের এই নতুন ক্রয়াদেশ তাদের বহর আধুনিকায়ন এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির কৌশলগত পরিকল্পনার প্রতিফলন।
চুক্তি সইয়ের সময় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক, উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লান্ডাউসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
বাসস জানায়, নিউইয়র্কের গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলের লবিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, আজ বোয়িংয়ের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি সই অনুষ্ঠান হয়েছে। সেখানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স আরও ১১টি বোয়িং বিমান কেনার বিষয়ে চুক্তি করেছে। বাংলাদেশের বিমান পরিবহন খাত সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নিয়েই নতুন উড়োজাহাজ কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বোয়িংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে এয়ারবাসের সঙ্গেও প্রয়োজন অনুযায়ী আলোচনা হতে পারে।
বাংলাদেশ চাহিদার ভিত্তিতেই বিমান কিনবে উল্লেখ করে এই উপদেষ্টা বলেন, ‘বাংলাদেশের এভিয়েশন সেক্টর সম্প্রসারণ হচ্ছে, নতুন নতুন রুট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এ কারণে নতুন উড়োজাহাজ প্রয়োজন।’



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.