ইরানবিষয়ক জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তথ্যানুসন্ধান মিশনের প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেছেন, ওয়াশিংটন এ প্রতিবেদনের ফলাফলকে বিশ্বাসযোগ্য মনে করে না।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের তথ্যানুসন্ধান মিশন জানায়, ইরানের যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধাপরাধ করেছে—এমনটা বিশ্বাস করার মতো প্রমাণ তারা পেয়েছে।
প্রতিবেদনে ইরানের মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ওই হামলায় ১৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন। ইরানের কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, নিহতদের মধ্যে অন্তত ১২০ জন ছিল স্কুলশিক্ষার্থী।
ইরানে চালানো আরেকটি বিমান হামলার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে জাতিসংঘের তথ্যানুসন্ধান মিশন। এতে বলা হয়, সহজে শনাক্ত করা যায়—এমন একটি ক্রীড়া স্থাপনা ও আবাসিক এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। ওই হামলায় ২২ জন বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হন।
প্রতিবেদনটি সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে জমা দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সে সময় কাউন্সিলসহ জাতিসংঘের কয়েকটি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের পরিপন্থীভাবে কাজ করার অভিযোগ তোলে ওয়াশিংটন।
প্রতিবেদনটির বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ওই কর্মকর্তা বলেন, জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী বক্তব্য ও ইহুদিবিদ্বেষ ছড়ায় এবং দমনমূলক শাসনব্যবস্থাকে প্রশ্রয় দেয়।
হোয়াইট হাউসও প্রতিবেদনটির বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এপি। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি বলেন, এই সংঘাতে একমাত্র ইরানের শাসকগোষ্ঠীই যুদ্ধাপরাধ করেছে।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.