চট্টগ্রাম বন্দরের ভেতর থেকে প্রায় তিন কোটি টাকা মূল্যের কাপড়ের রোলভর্তি একটি কনটেইনার উধাও হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কাস্টমস ও বন্দরের যাবতীয় রাজস্ব ও চার্জ পরিশোধের পর ডেলিভারি নিতে গিয়ে কনটেইনারটি না পাওয়ায় বন্দরের নিরাপত্তা ও কনটেইনার ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনার এক সপ্তাহের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো কনটেইনারটির কোনো হদিস মেলেনি। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
সংশ্লিষ্টরা জানায়, গত ১৫ আগস্ট চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি-২ বার্থে এমভি এমসিসি ডানাং জাহাজ থেকে ৪০ ফুটের এফসিএল কনটেইনারটি খালাস করা হয়। এমআরএসইউ-৮৬৯২৮২৭ নম্বরের ওই কনটেইনারে সাভারের কালিয়াকৈরে অবস্থিত রপ্তানিমুখী পোশাক শিল্পপ্রতিষ্ঠান গোল্ড স্টার গার্মেন্টস লিমিটেডের ৬৬৮ বেল ফেব্রিক্স বা কাপড়ের রোল ছিল।
কাস্টমস সূত্র জানায়, পণ্য খালাসের জন্য আমদানিকারকের পক্ষে সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান এস আর এস সিন্ডিকেট গত ২২ আগস্ট কাস্টমসের অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সার্ভারে বিল অব এন্ট্রি দাখিল করে। পরে কাস্টমস ও বন্দরের সব ধরনের রাজস্ব ও চার্জ পরিশোধ করা হয়।
নিয়ম অনুযায়ী, গত ৩০ আগস্ট বন্দরের সিসিটি ইয়ার্ড থেকে কনটেইনারটি ডেলিভারি নিতে যায় সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানটি। তবে সেখানে গিয়ে কনটেইনারটির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, ডেলিভারির সময় বন্দর কর্তৃপক্ষ কনটেইনারটি কিপডাউন দিতে পারেনি। এরপর বন্দর ইয়ার্ডসহ সংশ্লিষ্ট এলাকায় কয়েক দিন ধরে খোঁজাখুঁজি করেও কনটেইনারটির সন্ধান মেলেনি। একপর্যায়ে গত ২ সেপ্টেম্বর বন্দর চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন এস আর এস সিন্ডিকেটের স্বত্বাধিকারী মো. হাফিজুর রহমান।
অভিযোগে বলা হয়, কনটেইনারটিতে থাকা ৬৬৮ বেল কাপড়ের রোল শতভাগ রপ্তানিমুখী। এসব কাপড় দিয়ে তৈরি পোশাক নির্ধারিত সময়ে বিদেশি ক্রেতার কাছে পাঠানোর কথা। কিন্তু কনটেইনারটি না পাওয়ায় রপ্তানি কার্যক্রম নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এস আর এস সিন্ডিকেটের স্বত্বাধিকারী মো. হাফিজুর রহমান বলেন, কাস্টমস ও বন্দরের যাবতীয় চার্জ পরিশোধ করে কনটেইনার ডেলিভারির জন্য গেলে সেটি পাওয়া যায়নি। এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে কনটেইনারটির কোনো হদিস নেই। এতে প্রায় তিন কোটি টাকার কাপড় ছিল।
তিনি বলেন, কনটেইনারটিতে থাকা কাপড়গুলো শতভাগ রপ্তানিমুখী। নির্ধারিত সময়ে কাপড় না পাওয়ায় তাদের গ্রাহক গোল্ড স্টার গার্মেন্টসও বিপাকে পড়েছে। নির্ধারিত সময়ে রপ্তানি পণ্য ক্রেতার কাছে পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অভিযোগ দেওয়ার পর বন্দর কর্তৃপক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে বিষয়টি তদন্ত করছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন। তবে এখন পর্যন্ত কনটেইনারটির কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।
এদিকে বন্দরের মতো সর্বোচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত এলাকায় একটি কনটেইনার কীভাবে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কনটেইনারটি জাহাজ থেকে নামানোর পর কোন ইয়ার্ডে রাখা হয়েছিল, ইয়ার্ডে স্থানান্তরের সময় সংশ্লিষ্ট রেকর্ডে কী তথ্য রয়েছে, কনটেইনারটি সর্বশেষ কখন স্ক্যান বা মুভমেন্ট করা হয়েছে এবং এরপর সেটি কীভাবে নিখোঁজ হলো—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, ভুক্তভোগীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বন্দর কর্তৃপক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। ছয় সদস্যের এ কমিটিতে কাস্টমসের একজন প্রতিনিধিও রয়েছেন। তারা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছেন।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.