ইয়েমেনের চার জেলায় ইরানের মদতপুষ্ট হুথি বিদ্রোহীদের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে একযোগে ১৩টি বিমান অভিযান পরিচালনা করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। সোমবার ভোরের দিকে এসব অভিযান চালানো হয়।
ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মধ্যাঞ্চলীয় প্রদেশ আল-বায়দার আল-শারিয়াহ, ধি নাইম, আল-বায়দা ও আল সাওয়াদিয়াহ এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ আল-ধালে’তে এসব বিমান অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
অভিযানে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ লঞ্চার, কমান্ড সেন্টার, সামরিক যানবাহন ও সমাবেশস্থলকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। এছাড়া আল-ধালে প্রদেশে হুথি বাহিনীর একটি কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার এবং নাসা পর্বতে থাকা হুথিদের একটি থার্মাল নজরদারি ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে ইয়েমেনি বিমানবাহিনী।
এর আগে রোববার হুথি বিদ্রোহীদের কাছ থেকে ইয়েমেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর তাইজ এবং লোহিত সাগরের উপকূলবর্তী শহর আল হুদায়দার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ইয়েমেনের সেনাবাহিনী। ওই সংঘাতে ২০ জনেরও বেশি হুথি যোদ্ধা নিহত হয়েছেন।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর মাত্র এক বছরের মধ্যে ২০১৫ সালে রাজধানী সানা দখল করে হুথি গোষ্ঠী। রাজধানী দখলের পর ইয়েমেনের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মনসুর আবদ-আল হাদি সৌদি আরবে পালিয়ে যান। তার নেতৃত্বাধীন সরকারকে পুনরায় ক্ষমতায় বসাতে ওই বছর থেকেই ইয়েমেনে সামরিক অভিযান শুরু করে ইয়েমেন ও সৌদি বাহিনী। সেই অভিযান এখনো চলছে।
বর্তমানে ইয়েমেনের মোট ভূখণ্ডের প্রায় অর্ধেক হুথি গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বাকি অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে সৌদি সমর্থিত প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল সরকার। ইয়েমেনের সেনাবাহিনী প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিলের অনুগত। কয়েক বছর আগে প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল সরকার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও পেয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের কারণে ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকার বর্তমানে আগের মতো হুথিদের সহায়তা-সমর্থন দিতে পারছে না। এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে হুথিদের নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলো পুনরুদ্ধারে গত জুলাই থেকে নতুন উদ্যমে সামরিক অভিযান শুরু করেছে ইয়েমেনি সেনাবাহিনী।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.