নাইজেরিয়ার মধ্যাঞ্চলীয় প্লাটো রাজ্যের একটি গ্রামে রাতের আঁধারে চালানো হামলায় অন্তত ২৫ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় কর্মকর্তা ও বাসিন্দারা মঙ্গলবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এ ঘটনায় অস্থির ওই অঞ্চলে নতুন করে প্রতিশোধমূলক সহিংসতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
প্লাটো রাজ্যের স্থায়ী নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টিকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে এই হামলার ঘটনা। অঞ্চলটিতে কৃষিভিত্তিক সম্প্রদায় ও পশুপালকদের মধ্যে জমি ও সম্পদকেন্দ্রিক বিরোধ ঘিরে প্রায়ই রক্তক্ষয়ী ও প্রতিশোধমূলক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। এতে নিয়মিতই বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটে এবং অনেকে গৃহহীন হয়ে পড়েন।
রাজ্যের স্থানীয় কাউন্সিলর লেমুন লে’আন ইলিয়া বলেন, ঘটনাস্থলেই ২৩ জন মারা গেছেন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।
আমোস জন নামের অপর এক বাসিন্দা বলেছেন, হামলাকারীরা রামদা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে ঘরে ঘরে ঢুকে নির্বিচারে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। নিহতদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।
প্লাটো রাজ্য পুলিশের মুখপাত্র আলফ্রেড আলাবো গণমাধ্যমকে বলেছেন, কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর তারা আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেবেন।
এদিকে মওয়াগাভুল ইয়ুথ মুভমেন্ট নামের স্থানীয় একটি সামাজিক সংগঠন দুস্থ ও অরক্ষিত জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দিতে কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে ওই এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্মূল্যায়নের আহ্বান জানিয়েছে।
সংগঠনটির মুখপাত্র তুবওত জোয়েল সানডে বলেন, স্থানীয় বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ওপর একের পর এক ধ্বংসযজ্ঞ চালানো, নিরীহ মানুষকে হত্যা, বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ফসলি জমি নষ্ট করার ঘটনাগুলোকে সাধারণ আর দশটি ঘটনা হিসেবে দেখার আর সুযোগ নেই।
নাইজেরিয়ার মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত প্লাটো রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি, গবাদিপশুর চারণভূমি ও প্রাকৃতিক সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘাত চলছে। এসব সংঘাত প্রায়ই জাতিগত ও ধর্মীয় বিভাজনে রূপ নিয়ে মারাত্মক আকার ধারণ করে।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.