২৩ বছরের সামরিক অধ্যায়ের ইতি, ইরাক থেকে সেনা প্রত্যাহার করছে যুক্তরাষ্ট্র

দীর্ঘ ২৩ বছরের সামরিক উপস্থিতির অবসান ঘটিয়ে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইরাক থেকে সব করবে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার (১২ আগস্ট) ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল জাইদির দপ্তর থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ইরাকে আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে বৈশ্বিক জোটের সামরিক অভিযান শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে অর্থাৎ ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই সব বিদেশি সেনা ইরাক ছেড়ে যাবে। এরপর ১ অক্টোবর থেকে দেশটিতে আর কোনো বিদেশি সেনা থাকবে না। ইরাকি কর্তৃপক্ষ দিনটিকে দেশের জন্য একটি ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

ইরাক সরকার জানিয়েছে, সম্প্রতি ওয়াশিংটন সফরের সময় দেশটির প্রধানমন্ত্রী আলি আল জাইদির সঙ্গে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান জেনারেল ব্র্যাড কুপারের বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে হওয়া আলোচনার ভিত্তিতেই সেনা প্রত্যাহারের সময়সীমা চূড়ান্ত করা হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পরও দুই দেশ পারস্পরিক সার্বভৌমত্ব ও দ্বিপক্ষীয় স্বার্থের প্রতি সম্মান বজায় রাখবে। সামরিক উপস্থিতির পরিবর্তে অর্থনীতি, বাণিজ্য ও নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেবে বাগদাদ ও ওয়াশিংটন।

এদিকে, মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের সত্যতা নিশ্চিত করতে মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনের সঙ্গে যোগাযোগ করে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)। পেন্টাগনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, আইএসকে পরাজিত করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র, ইরাক ও আন্তর্জাতিক জোট উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। বর্তমানে ইরাকের নিরাপত্তা বাহিনী দেশটির অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সক্ষমতা অর্জন করেছে। তবে ইরাকে বর্তমানে কতজন মার্কিন সেনা অবস্থান করছেন, সে বিষয়ে তিনি কোনো তথ্য দেননি।

উল্লেখ্য, ২০০৩ সালের ১৯ মার্চ তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের সরকার উৎখাতের লক্ষ্যে ইরাকে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। অভিযানের প্রায় নয় মাস পর সাদ্দাম হোসেন গ্রেপ্তার হন। পরে বিচার শেষে ২০০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর তার ফাঁসি কার্যকর করা হয়।

সাদ্দাম সরকারের পতনের পর মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পরিকল্পনা থাকলেও ইরাকে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) উত্থানের কারণে দেশটিতে সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখে ওয়াশিংটন। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় পর এবার সেই সামরিক অধ্যায়ের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে।

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.