দেড় দশকে দেশের প্রতিটি ইনস্টিটিউট ধ্বংস করা হয়েছে: তথ্য উপদেষ্টা

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, গত দেড় দশকে দেশের প্রতিটি ইনস্টিটিউট ধ্বংস করা হয়েছে। ম্যানিপুলেট (কারসাজি) করে নানান রকম মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হয়েছে। এ কারণে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর মাত্র ছয় মাসের মধ্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আশা করা ঠিক হবে না।

মঙ্গলবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামো নির্ধারণ বিষয়ক জাতীয় সম্মেলনের এক অনুষ্ঠানে সম্মানিত অথিতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

উপদেষ্টা বলেন, শ্রীলঙ্কার সঙ্গে বাংলাদেশের তুলনা করা একেবারেই ভুল। শ্রীলঙ্কায় সরকারের ইকোনমিক মিসম্যানেজমেন্ট ছিল, যার কারণে সেখানে রিজার্ভ ক্রাইসিস তৈরি হয়েছিল। তবে দেশটিতে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার ছিল এবং সেখানকার ইনস্টিটিউটগুলো ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়নি। ফলে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর তাদের জন্য অর্থনৈতিক সংস্কার করা অনেক সহজ ছিল। দেশের সামনে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকার ও প্রবৃদ্ধির একটি অতিরঞ্জিত চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। আওয়ামী লীগের শেষ তিন-চার বছর বাংলাদেশে এক ধরনের স্থবিরতার সঙ্গে মূল্যস্ফীতির পরিস্থিতি বিরাজ করেছে।

তিনি বলেন, আমি বলছি না, আমাদের ভবিষ্যৎ খুব খারাপ। কিন্তু আমরা কোন ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছি, সেটা সম্ভবত আমাদের মাথায় রাখা দরকার। গত ১৫ বছরে যে বিপযর্য়ের শাসন ছিলো, তার মাশুল আমরা এখনো দিচ্ছি। আমরা এখন যে জায়গায় আছি, সেখান থেকে কারিগরি দিক বিবেচনায় মনে হতে পারে, আমাদের অর্থনৈতিক সংস্কার বা প্রবৃদ্ধি অন্তত আরও দ্রুত হওয়ার কথা ছিল। আমি যতদূর অর্থনীতি বুঝি, আমার কাছে এটাও খুব সহজ কোনো কারণে মনে হয় না।

জাহেদ উর রহমান বলেন, গত ১৫ বছরে পুলিশসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যে মানসিকতা তৈরি হয়েছে, সেখান থেকে হঠাৎ বেরিয়ে আসা সহজ নয়। আমলাতন্ত্রের অনেকের মধ্যেও নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকারের সঙ্গে কীভাবে কাজ করতে হয়, সেই বোধ হারিয়ে গেছে। নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকার দ্রুত ফলাফল চাইবে। কারণ সেই ফলাফল দেখিয়ে আবার ভোট চাইবে। গত ১৫ বছর ধরে এই প্রবণতাগুলো ছিল না। সে কারণে আমি মনে করি, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের বিষয়গুলো একে অপরের সঙ্গে গাঁথা। এগুলো বাস্তবায়নে কিছুটা সময় দিতে হবে।

অধ্যাপক ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও প্রতিষ্ঠাতা ড. এম মাশরুর রিয়াজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক আবু আহমেদ, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মো. ফিরোজ সরকার এবং অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার। বাসস

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.