দ্বিতীয় প্রান্তিকে এইচএসবিসির মুনাফা ৭.৫ বিলিয়ন পাউন্ড, ব্যাংক কর আরোপের দাবি

চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) ৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন পাউন্ড (১০ দশমিক ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) মুনাফা করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যাংক এইচএসবিসি। শক্তিশালী এই মুনাফার পর দেশটির ব্যাংক খাতে অতিরিক্ত কর বা উইন্ডফল ট্যাক্স আরোপের দাবি নতুন করে জোরালো হয়েছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) প্রকাশিত আর্থিক ফলাফলে দেখা যায়, আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এইচএসবিসির মুনাফা ৬০ শতাংশ বেড়েছে। সম্পদ ব্যবস্থাপনা, বীমা ব্যবসা এবং উচ্চ সুদের হার থেকে ঋণ ও মর্টগেজে বেশি আয় হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির মুনাফা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

এইচএসবিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জর্জ এলহেদারি জানিয়েছেন, শক্তিশালী আর্থিক ফলাফলের পর ব্যাংকারদের বোনাস বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি গত বছর স্থগিত থাকা শেয়ার পুনঃক্রয় (শেয়ার বাইব্যাক) কর্মসূচিও আবার চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এইচএসবিসি, ন্যাটওয়েস্ট, বার্কলেজ ও লয়েডস—যুক্তরাজ্যের চার বৃহৎ ব্যাংক চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে সম্মিলিতভাবে প্রায় ২৯ দশমিক ২ বিলিয়ন পাউন্ড মুনাফা করেছে। এরপরই পজিটিভ মানি এবং ট্রেডস ইউনিয়ন কংগ্রেস (টিইউসি)-সহ বিভিন্ন সংগঠন ব্যাংক খাতে বিশেষ কর আরোপের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে।

প্রচারণা সংগঠন পজিটিভ মানির হিসাব অনুযায়ী, স্পেনের আদলে যুক্তরাজ্যে ব্যাংকগুলোর ৮০ কোটি পাউন্ডের বেশি আয়ের ওপর ৩৮ শতাংশ কর আরোপ করা হলে প্রায় ১৯ বিলিয়ন পাউন্ড অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় সম্ভব। তাদের দাবি, এই অর্থ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা যাবে।

সংগঠনটির কো-ডিরেক্টর সারা হল বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রেকর্ড মুনাফা করলেও শক্তিশালী ব্যাংকিং লবির কারণে সরকারগুলো এ খাতে অতিরিক্ত কর আরোপ থেকে বিরত থেকেছে। অথচ জনগণের বড় একটি অংশ এ ধরনের করের পক্ষে রয়েছে।

অন্যদিকে, ব্যাংকগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তারা অতিরিক্ত কর আরোপের বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। তাদের দাবি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে শক্তিশালী ব্যাংকিং খাত প্রয়োজন। এইচএসবিসির প্রধান নির্বাহী জর্জ এলহেদারি বলেন, “যুক্তরাজ্যের প্রবৃদ্ধির জন্য শক্তিশালী ব্যাংক অপরিহার্য।”

এদিকে, টিইউসির মহাসচিব পল নওয়াক বলেন, উচ্চ সুদের কারণে সাধারণ মানুষ যখন ঋণ ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপে পড়েছে, তখন বড় ব্যাংকগুলো বিপুল মুনাফা করছে। তাই তাদের আরও বেশি কর দেওয়া উচিত।

এ ছাড়া অ্যাকশনএইড ইউকের পক্ষ থেকেও ব্যাংকগুলোর ওপর জলবায়ু ও মানবাধিকার সংশ্লিষ্ট দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে নতুন কর আরোপের আহ্বান জানানো হয়েছে। সংগঠনটির দাবি, জীবাশ্ম জ্বালানি ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর খাতে অর্থায়নের কারণে ব্যাংকগুলোর ওপর ‘দূষণকারী পরিশোধ করবে’ নীতির ভিত্তিতে কর আরোপ করা প্রয়োজন।

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.