চতুর্থ শিল্পবিপ্লব, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক শ্রমবাজারের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিল্পখাত ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন মানবসম্পদ বিশেষজ্ঞ, করপোরেট নির্বাহী ও শিক্ষাবিদরা।
শনিবার (১ আগস্ট) প্রতিষ্ঠানটি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
তাদের মতে, বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠীকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম করে তুলতে ভবিষ্যতমুখী মানবসম্পদ, কার্যকর নেতৃত্ব এবং কর্মসংস্থানমুখী দক্ষতা গড়ে তোলা অপরিহার্য।
শনিবার গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের সেন্টার ফর ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট (সিসিডি) আয়োজিত এইচআর সামিট ২০২৬: ‘এমপাওয়ারিং টুডেজ ট্যালেন্ট টু লিড টুমরো’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আয়োজিত এই সামিটে ৩০ জনের বেশি মানবসম্পদ পেশাজীবী, করপোরেট নির্বাহী, শিক্ষাবিদ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন খাতের তরুণ পেশাজীবী অংশ নেন। অনুষ্ঠানে ভবিষ্যৎ কর্মশক্তি, নেতৃত্ব উন্নয়ন, কর্মসংস্থানযোগ্য দক্ষতা, ট্যালেন্ট ম্যানেজমেন্ট, প্রযুক্তিনির্ভর মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা, এআই যুগে কর্মক্ষেত্রের রূপান্তর এবং শিল্প-শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে তিনটি প্যানেল আলোচনা ও দুটি গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
দিনব্যাপী এ আয়োজনে বক্তারা বলেন, একাডেমিক শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রের বাস্তব চাহিদার মধ্যে ব্যবধান কমাতে শিল্পখাত ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা এবং দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব অত্যন্ত প্রয়োজন।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন বলেন, “এইচআর সামিট শুধু একটি আয়োজন নয়; এটি বিশ্ববিদ্যালয় ও করপোরেট খাতের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম। আমাদের লক্ষ্য শুধু ডিগ্রি প্রদান নয়, বরং শিক্ষার্থীদের সফল পেশাজীবী ও ভবিষ্যৎ নেতা হিসেবে গড়ে তোলা।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. খাওজা ইফতেখার উদ্দিন আহমেদ বলেন, “প্রযুক্তিগত জ্ঞানের পাশাপাশি কার্যকর যোগাযোগ দক্ষতা, সৃজনশীলতা এবং নেতৃত্ব একজন শিক্ষার্থীর ক্যারিয়ার গঠনের মৌলিক ভিত্তি। এই সামিট শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন দিকনির্দেশনা তৈরি করবে।”
আলোচনায় অংশ নেওয়া মানবসম্পদ বিশেষজ্ঞরা বলেন, প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে আজীবন শিক্ষা এবং ধারাবাহিক দক্ষতা উন্নয়ন এখন ক্যারিয়ারে সফলতার অন্যতম প্রধান ভিত্তি। তারা আরও বলেন, বাংলাদেশের তরুণরাই দেশের অন্যতম বড় শক্তি। তাদের পেশাগত দক্ষতা, কর্মপ্রস্তুতি এবং নেতৃত্বের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা গেলে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের পাশাপাশি বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় দেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।
প্যানেল আলোচনা ও গোলটেবিল বৈঠকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ নির্বাহী, মানবসম্পদ প্রধান এবং শিল্পখাতের বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন। তাদের মধ্যে ছিলেন এবিএম ইউসুফ আলী খান (আমান গ্রুপ), শেখ আমিনুর রহমান (প্রাইম ব্যাংক ফিনটেক লিমিটেড), আশফাকুর রহমান (কাজী অ্যান্ড কাজী টি এস্টেট লিমিটেড) এবং জিয়া উদ্দিন মাহমুদ (ক্রিয়েটিভ বিজনেস গ্রুপ)।
এ ছাড়া অংশ নেন দিলরুবা শারমিন খান (এইচআর বিশেষজ্ঞ), সুমন কান্তি সিংহ (ফকির গ্রুপ), শামীমা আক্তার খানম (নিটল নিলয় গ্রুপ), ফারজানা আলিম (এয়ার অ্যাস্ট্রা), মোহাম্মদ খালিদ (অ্যাপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেড), অর্পণ সাহা (উপায়-এর মানবসম্পদ প্রধান), এ. কে. এম. মাহমুদুল হক (আইসিএফ–পিসিসি সনদপ্রাপ্ত এক্সিকিউটিভ লিডারশিপ কোচ ও এইচআর বিশেষজ্ঞ), নুসরাত তাবাসসুম (গার্ডিয়ান লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড), মো. তাহমিদুল ইসলাম (ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স), শান্তনু রায় (আস্থা ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড) এবং মো. রেজাউল করিম (স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপ)।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা প্রশ্নোত্তর ও ইন্টারঅ্যাকটিভ আলোচনায় সমসাময়িক মানবসম্পদ চ্যালেঞ্জ, ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা এবং কর্মক্ষেত্রে উদ্ভাবন নিয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন।
শেষে বক্তা ও প্যানেলিস্টদের মূল্যবান অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.